সিএমএসএমই খাতে অর্থায়ন সুবিধা উন্নয়নে আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি ও সিটিব্যাংক এন. এ., বাংলাদেশ একটি পিয়ার লেন্ডিং পার্টনারশিপ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রথম পিয়ার লেন্ডিং পার্টনারশিপ চালু হলো, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএমএসএমই অর্থায়ন সংক্রান্ত এসএমইএসপিডি মাস্টার সার্কুলার অনুসারে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
চুক্তির আওতায় সিটিব্যাংক এন. এ. আইডিএলসি ফাইন্যান্সকে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান করবে, যা পরবর্তীতে যথাযথ সিএমএসএমই গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ হিসেবে বিতরণ করবে আইডিএলসি। এর ফলে উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণপ্রাপ্তি সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের তারল্য একটি মাল্টি-প্রোডাক্ট নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে, যা সিএমএসএমই অর্থায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
ঢাকার গুলশানে আইডিএলসি কর্পোরেট হেড অফিসে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও এম জামাল উদ্দিন এবং সিটিব্যাংক এন. এ., বাংলাদেশের সিটি কান্ট্রি অফিসার ও ব্যাংকিং প্রধান মো. মঈনুল হকসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে এম জামাল উদ্দিন বলেন, সিএমএসএমই খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং এই অংশীদারিত্ব চাহিদাভিত্তিক উদ্ভাবনী অর্থায়ন সমাধান প্রদানে আইডিএলসির অঙ্গীকারকে তুলে ধরে। মাল্টি-প্রোডাক্ট এনবিএফআই হিসেবে আইডিএলসির বিস্তৃত পোর্টফোলিও এবং সিটিব্যাংকের তারল্য সুবিধা কাজে লাগিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে মো. মঈনুল হক বলেন, এই উদ্যোগে আইডিএলসির অংশীদার হতে পেরে সিটিব্যাংক গর্বিত। যৌথভাবে সিএমএসএমই খাতে অর্থায়ন সহজতর করা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি এমএসএমই প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশে অবদান রাখে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এই খাতে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি রয়েছে (সূত্র: আইএফসি/বিশ্বব্যাংক, ২০২৩)। আইডিএলসি ও সিটিব্যাংকের এই পিয়ার লেন্ডিং উদ্যোগ সেই ঘাটতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি দেশের একটি শীর্ষ মাল্টি-প্রোডাক্ট, মাল্টি-সেগমেন্ট নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এক হাজার ৭০০-এর বেশি কর্মী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এসএমই, কনজ্যুমার ও কর্পোরেট খাতে বিস্তৃত আর্থিক সেবা প্রদান করে। পাশাপাশি মূলধন বাজার ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। আইডিএলসি টানা ১৩ বছর ‘ট্রিপল-এ’ (এএএ) ক্রেডিট রেটিং ধরে রেখেছে এবং ২০২৪ সালে এককভাবে ৫৩ শতাংশ লাভের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর পরবর্তী সমন্বিত নিট মুনাফা ২০০ কোটির অংক ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া ডিজিটাল উদ্ভাবন, পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে অবদানের জন্য বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে আইডিএলসি।