ফেনী সদর উপজেলার ৯ নং লেমুয়া ইউনিয়নের নেয়াজপুর গ্রামে অবস্থিত নেয়াজপুর নাজমুনওয়ালীয়া নুরানি ও হাফেজীয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ওঠার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিভাবক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ কয়েকজন ভুক্তভোগী ছাত্রী নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আলোচনা করছিল। এসময় পাশে থাকা এক অভিভাবক বিষয়টি শুনতে পান। পরে তিনি তার মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে মেয়েটি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন সময় নারী শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করতেন এবং অশালীন আচরণ করতেন। শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, বিষয়টি কাউকে জানালে তাদের ক্ষতি করা হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল।
পরে ওই শিক্ষার্থীর মা বিষয়টি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হাফেজ রিয়াজ উদ্দিনকে জানালে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। এদিকে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে একাধিকবার ফোন করে বিষয়টি কাউকে না জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবারও বিষয়টি জানতে পারে। পরদিন ৯ মার্চ সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মাদ্রাসায় গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে সেখানে পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের ডাকলেও প্রথমে কেউ উপস্থিত হননি।
পরে পরিচালনা কমিটির সদস্য রহমত উল্লাহ ঘটনাস্থলে এলে তাকে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হয়। এসময় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। বিচার না হওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসার নূরানি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা।
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পরিচালনা কমিটির সদস্য রহমত উল্লাহ ও সহকারী শিক্ষক শাহাদাত হোসেন কয়েকজন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এসময় তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মমিনুল হককে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাৎ, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত ফোন দেওয়ার অভিযোগে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।