৫ মিনিটের ‘অপারেশন’
ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ৩টা ১০ মিনিট। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও সুরক্ষিত বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের জনতা ব্যাংক কর্পোরেট শাখার সামনে আর দশটা দিনের মতোই ছিল সাধারণ মানুষের কর্মব্যস্ততা। কিন্তু মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে সেই ব্যস্ত চত্বর রূপ নিল ভয়াবহতায়! প্রকাশ্য দিবালোকে চলল গুলি, লুটে নেওয়া হলো ব্যাগভর্তি টাকা। ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ফিল্মি কায়দায় ঘটা এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনা পুরো রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রোববার (৭ জুন) বিকেল আনুমানিক ৩টা ১০ থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। জনতা ব্যাংকের কর্পোরেট শাখার সামনে হঠাৎ করেই তিনটি মোটরসাইকেলে চড়ে হাজির হয় ছয়জন স্বশস্ত্র অজ্ঞাত-পরিচয় যুবক। তাদের মূল টার্গেট ছিলেন লোকমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তি।
মোটরসাইকেল থেকে নেমেই লোকমানকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গুলির বিকট শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, পথচারীরা প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় লোকমান মাটিতে লুটিয়ে পড়ামাত্রই তার কাছে থাকা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। এরপর চোখের পলকে দ্রত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। পুরো ‘অপারেশন’ শেষ করতে অপরাধীরা সময় নেয় মাত্র ৫ মিনিট!
পরে গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত লোকমানকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা এগিয়ে আসেন। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
ব্যস্ততম একটি ব্যাংকের কর্পোরেট শাখার ঠিক সামনে এমন দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনায় পুরো মতিঝিল এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মনে নতুন করে দানা বাঁধছে নিরাপত্তা আতঙ্ক। প্রশ্ন উঠছে, দিনের আলোতে ব্যাংকের সামনে যদি এভাবে গুলি করে টাকা ছিনতাই করা যায়, তবে সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি কোথায়?
ঘটনার পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আলামত সংগ্রহ করেছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এটি কোনো সাধারণ ছিনতাই নয়। ভুক্তভোগীর গতিবিধি এবং টাকার তথ্য আগে থেকেই নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করছিল চক্রটি। ব্যাংকের ভেতর থেকে কোনো তথ্য ‘লিক’ হয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মতিঝিল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ইতোমধ্যে জনতা ব্যাংক এবং আশেপাশের ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট এবং অপরাধীদের অবয়ব শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
মতিঝিল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সালাহউদ্দিন কাদের জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।