যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করতে সফল হয়, তাহলে দেশটির ওপর ব্যাপকভাবে ‘বোমা ফেলার’ জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি অনেকদিন ধরে তাদের হিটলিস্টে (হত্যার তালিকায়) আছি। আমাদের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে কথা হলো, আমি নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি, আমার কিছু হলে, তারা (মার্কিন বাহিনী) যেন আক্ষরিক অর্থেই ইরানের ওপর এমনভাবে বোমা হামলা চালায়, যা তারা এর আগে কখনো দেখেনি।’
ইসরায়েল সম্প্রতি ইরানের তাকে হত্যার নতুন কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে সতর্ক করেছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এনিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই।
তিনি বলেন, ‘না। ইসরায়েল নতুন কিছু বলেনি।’
তবে ট্রাম্প দাবি করেন, বহু বছর ধরে ইরান তাকে হত্যার চেষ্টা করছে।
নিউইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেন, ‘অনেকদিন ধরে আমি তাদের (ইরানিদের) হত্যার তালিকার এক নম্বরে আছি। জীবন তো এমনই। আশা করি, আমি না থাকলে আপনারা আমাকে মিস করবেন।’
তুরস্কে সম্প্রতি ন্যাটো সম্মেলন শেষে আঙ্কারা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে শেষ মুহূর্তে নিজের ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন ট্রাম্প।
এর আগেও তিনি একাধিকবার দাবি করেন, ইরানের ‘হত্যার তালিকায়’ তিনিই এক নম্বর লক্ষ্য।
তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তাদের আগের নেতারা নেই। এরপর আরেক দল নেতা এলো, তারাও নেই। এখন নতুন আরেক দল নেতা এসেছে। তারাও হয়তো থাকবে না, কে জানে।’
‘জানেন কী? আমিও হয়তো থাকব না,’ যোগ করেন ট্রাম্প।
রিপাবলিকান এই নেতা দাবি করেন, এতদিন তিনি ‘ভাগ্যবান’ ছিলেন বলেই রক্ষা পেয়েছেন। তবে এই সৌভাগ্য যে সবসময় থাকবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
‘আজ সকালে দেখলাম, তাদের (ইরানিদের) প্রতিটি তালিকাতেই আমার নাম রয়েছে। এতদিন পর্যন্ত কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম। কিন্তু সেই ভাগ্য কতদিন থাকবে, বলা যায় না,’ বলেন ট্রাম্প।