অনুমোদনহীন পথ দিয়ে চলাচল করা একটি জাহাজে আঘাত হানার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের পাল্টা হামলা চালানো হলে তার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী আজ রোববার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নিজেদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিপন্ন করায় একটি জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে এবং সেটির গতি সচল রাখা থেকে বিরত করা হয়েছে।’
আক্রান্ত জাহাজটি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য বিবৃতিতে দেওয়া হয়নি।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হামলার শিকার পণ্যবাহী জাহাজটিতে সাইপ্রাসের পতাকা ছিল। হামলায় একজন ক্রু সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এবং ‘ওই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপের অবসান না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
এ ঘটনায় পাল্টা আঘাত হানা হলে ‘কঠোর জবাব দেওয়া হবে’ বলে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিলেও এরই মধ্যে ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই তারা ইরানে তৃতীয় দফা হামলা চালায়। সর্বশেষ রোববার তারা ইরানের প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে; যার মধ্যে ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌ সক্ষমতা, গোলাবারুদ মজুত রাখার সুবিধা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে’।
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তা আবার বন্ধ করা হলো।