জার্মানির একটি মা ও শিশু সহায়তা কেন্দ্রে এক বন্দুকধারীর গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। পুলিশ বলছে, নিজের কন্যাসন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন ওই বন্দুকধারী।
গতকাল সোমবারের এই হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন। তারা সবাই হামবুর্গের কাছে স্টাড শহরে ওই কেন্দ্রের কর্মী ছিলেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় বন্দুকধারীর তিন মাস বয়সী কন্যাশিশু এবং তার মা কার্যালয়ের ভেতরেই ছিলেন। তবে তারা সুরক্ষিত আছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, এ ঘটনায় বন্দুকধারীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য এখন আর কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।
জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যানিয়েলা বেরেনস গতকাল রাতে সাংবাদিকদের জানান, এই হত্যাকাণ্ড ‘পারিবারিক কারণে ঘটেছে’ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত নির্মম ও ঠান্ডা মাথায় ঘটানো সহিংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না।
স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে প্রথম গুলির খবর পাওয়া যায়। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, ডানকারস্ট্রাসের একটি যুব কল্যাণ কেন্দ্রের অন্তর্গত মা ও শিশু সহায়তা কেন্দ্রে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয়।
পুলিশ জানায়, কেন্দ্রের ভেতরে চার নারী ও এক পুরুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ষষ্ঠ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। নিহতদের সবাই প্রাপ্তবয়স্ক।
লুয়েনবার্গ পুলিশ প্রধান ক্যাথরিন শুওল জানান, সন্দেহভাজন বন্দুকধারী ৪৫ বছর বয়সী তুর্কি নাগরিক। তিনি জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে হ্যানোভারে বসবাস করেন।
শুওল জানান, সোমবার ওই কেন্দ্রে নিজের মেয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে আলোচনার জন্য ‘নিহতদের অনেকের সঙ্গে’ ওই ব্যক্তির নির্ধারিত বৈঠক ছিল।
পুলিশ তাকে আগে থেকে ‘হুমকি দেওয়ার অপরাধে’ চিনত। তবে তিনি যে এতটা সহিংস হয়ে উঠতে পারেন, এমন ধারণা ছিল না।