জেফরি এপস্টেইন ফাইল বা ‘এপস্টেইন লিস্ট’ নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় চলছে, প্রতিদিনই বিশ্বের বাঘা বাঘা রাজনীতিক বা ধনকুবেরদের নাম প্রকাশ পাচ্ছে। তবে সেখানে ব্যতিক্রম আছেন কয়েকজন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সত্যতা যাচাই করে দেখা যাচ্ছে আলোচিত নেতাদের মধ্যে এদের নাম নেই: আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (ইরান), ভ্লাদিমির পুতিন (রাশিয়া), শি জিনপিং (চীন) ও কিম জং উন (উত্তর কোরিয়া)-এর নাম জেফরি এপস্টেইনের কোনো অফিশিয়াল নথিতে পাওয়া যায়নি।
তবে ভিত্তিহীন গুজব হয়েছে এদের নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সময় এই নেতাদের নাম জড়িয়ে বিভিন্ন ভুয়া তালিকা প্রচার করা হয়। কিন্তু মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার কোনো অফিশিয়াল নথিতেই তাদের নাম পাওয়া যায়নি।
এই নেতারা মূলত পশ্চিমাবিরোধী শিবিরের। এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইউরোপের অভিজাত সামাজিক ও রাজনৈতিক সার্কেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
কেন নেতাদের নাম নেই?
গবেষকদের মতে, এপস্টেইন মূলত পশ্চিমা ‘পাওয়ার ব্রোকার’ হিসেবে কাজ করতেন। পুতিন বা শি জিনপিংয়ের মতো নেতাদের নিজস্ব শক্তিশালী গোয়েন্দা ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বলয় রয়েছে, যা তাদের বাইরের কোনো ব্যক্তির ‘সেক্স ট্রাফিকিং’ বা ‘ব্ল্যাকমেইল’ নেটওয়ার্কের অংশ হওয়া থেকে দূরে রেখেছে।
ফাইলে মূলত কাদের নাম আছে?
এ বছরের ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত সর্বশেষ নথিতে মূলত পশ্চিমা বিশ্বের ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:
ডোনাল্ড ট্রাম্প: নথিতে কয়েক হাজার বার তার নাম এসেছে, যার মধ্যে বেশির ভাগই ই-মেইলে তাকে নিয়ে আলোচনা বা সাধারণ আমন্ত্রণের প্রসঙ্গ।
বিল ক্লিনটন: তার বেশ কিছু ছবি এবং এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রিন্স অ্যান্ড্রু (যুক্তরাজ্য): তার নাম কয়েক শবার এসেছে এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া গেছে।
ইলন মাস্ক ও বিল গেটস: তাদের সঙ্গে এপস্টেইনের ই-মেইল যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত সাক্ষাতের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
অন্যান্য: অভিনেতা কেভিন স্পেসি, ক্রিস টাকার ও বিখ্যাত সংগীতশিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের নামও এই ফাইলে পাওয়া গেছে।