সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমে বেইত জিন গ্রামে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সিরিয়া। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হামলায় একটি বেসামরিক যানবাহনে আঘাত লাগে। এতে কয়েকজন আহত হন।
গত এক সপ্তাহে সিরিয়ায় এটি ইসরায়েলের দ্বিতীয় হামলা। এ ঘটনাকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের ‘লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখছে সিরিয়া।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিয়ায় গতকাল শনিবার হামলার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা এমন এক ‘সন্ত্রাসীকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যিনি ইসরায়েলি সেনাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করে, এমন হামলার প্রস্তুতির ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ ছিলেন।
সর্বশেষ এ হামলার কয়েকদিন আগে গত মঙ্গলবার তুরস্কের সীমান্তের কাছে একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরায়েল।
সিরিয়া সেসময় বলেছিল, ওই হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ওই হামলার পর বিরল এক ঘটনায় ইসরায়েলের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন এটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিল, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এগিয়ে নিতে এ ঘটনা কোনো ভূমিকা রাখছে না।
গত শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেন, আসন্ন ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে তুরস্ককে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা হিসেবে ‘ইসরায়েলিরা তুরস্ককে উসকানি দিয়ে থাকতে পারে’।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ব্যারাকের এই বক্তব্যকে ‘ভুল তথ্যে ভরা’ বলে মন্তব্য করেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাটজ বলেন, ‘তুরস্কের অভিপ্রায় সম্পর্কে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে’ ইসরায়েলি বাহিনী ওই পদক্ষেপ নেয়।
গত মঙ্গলবার সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল।
‘কিন্তু তুরস্কের সেনাদের আলেপ্পোর কাছে একটি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েনের অনুমতি দিয়ে সিরিয়া সেই সমঝোতা লঙ্ঘনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।’