পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে সরকারি হাসপাতালে নেওয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
দলটির কর্মকর্তারা আজ শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আবেদনের বিষয়ে ইমরান খানের আইনি উপদেষ্টা নাঈম পানজুথা বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আবেদনে জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতাকে নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আর্জি জানানো হয়।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দী পাকিস্তানের বিপুল জনপ্রিয় এই নেতা। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়, যেগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
এসব মামলায় ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হলে পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
গতকাল শুক্রবার ‘আদালত অবমাননা’ করে তাকে জোরপূর্বক কারাগারে ফেরত পাঠানোর ঘটনা আবারও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনদিন আগে গত মঙ্গলবার তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ দুই দিনের মধ্যে ইমরান খানকে আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে সরকারি কর্মকর্তারা শুক্রবার ভোরে তাকে কারাগার থেকে সরকারি হাসপাতাল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নিয়ে যান এবং সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে আনেন।
এমনকি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গেও তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
পিটিআই বলছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অন্তত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইমরান খানকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখার কথা ছিল।
হাসপাতালে শুক্রবার ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার বোন উজমা খান।
পরে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইমরান ‘শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও কারাগারে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করা হচ্ছে বলে তার ভাই তাকে জানিয়েছেন’।
তবে কারাগারে নির্যাতনের এই অভিযোগের বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় কিংবা কারা কর্তৃপক্ষ।