তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। একই সঙ্গে তেল আবিব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করার তুর্কি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে’ ইসরায়েল।
গাজামুখী ত্রাণবাহী বহরে ইসরায়েলি বাধার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে তুরস্ক। এর অংশ হিসেবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কথা গতকাল শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক।
এরপরই নেতানিয়াহুর কার্যালয় কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় বলে আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়।
এর আগে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহু ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে তুরস্ক।
শুক্রবার এক্সে দেওয়া পোস্টটিতে তুর্কি বিচারমন্ত্রী গুরলেক বলেন, ‘গাজায় গণহত্যা নীতি বাস্তবায়নকারী নেতানিয়াহু প্রশাসন ধরাছোঁয়ার বাইরে এবং জবাবদিহিহীন, এমন ধারণাকে আমরা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছি।’
তিনি বলেন, ‘গাজায় সংঘটিত অপরাধ ধামাচাপা দিতে বা অপরাধীদের বিচারের হাত থেকে রেহাই দেওয়ার সুযোগ আমরা দেব না। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের সব সুযোগ ব্যবহার করব।’
মন্ত্রী জানান, তার মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে নেতানিয়াহু এবং আফেক মস্কোভিচ নামের আরেক ইসরায়েলির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে।
গত মে মাসে গাজায় পৌঁছানোর চেষ্টাকালে ৪০০ জনেরও বেশি অধিকারকর্মীবাহী এক ত্রাণবহরে বাধা দেয় ইসরায়েল।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় পরিচালিত ইসরায়েলি এই অভিযান এবং পরবর্তীতে অধিকারকর্মীদের সঙ্গে তাদের আচরণ বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনি বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে ফ্রান্স, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়া।