মধ্য কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু আগুনে পুড়ে নয়, বরং ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ফরেনসিক পরীক্ষা দরকার।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই ভবনে আগুন লাগে। এতে চার বছরের এক শিশুসহ ৯ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৫টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ফায়ার সার্ভিসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ভবনটি থেকে প্রায় ৮০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
পাঁচতলা ভবনটিতে কেবল একটি নয়, বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী।
তিনি জানান, নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, নিহতদের মধ্যে ভারতীয় ও বাংলাদেশি, উভয় দেশের নাগরিক রয়েছেন।
‘আমরা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। এই ভবনের ভেতরের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একটি ভবনের ভেতরেই কয়েকটি হোটেল চলছে। এখানকার পরিস্থিতি দেখে আমি স্তম্ভিত,’ বলেন কৌশিক চৌধুরী।
আগুনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ‘ফরেনসিক পরীক্ষার পরেই আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে’।
তিনি বলেন, ‘ভবন কর্তৃপক্ষ অগ্নিনির্বাপণের মৌলিক নিরাপত্তা এবং নির্মাণ বিধি মেনে চলেনি। হোটেলটির পরিচালনায় বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।’
পুলিশের এক কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেন, ‘ঘন ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পক্ষে সিঁড়ি বেয়ে ওপরের তলায় ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
‘আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা এবং আগুনের কারণ শনাক্ত করা। আগুন নেভানো সম্ভব হলেও ভবনটি এখনো প্রচণ্ড উত্তপ্ত। বর্তমানে কুলিং প্রসেস (ঠান্ডা করার কাজ) চলছে।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিস বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘৯টি মরদেহ যখন বের করে আনা হয়, তখন দেখা যায় তাদের শরীরে তেমন কোনো পোড়ার ক্ষত ছিল না। উদ্ধার হওয়া হোটেলের অন্য অতিথিরাও জানিয়েছেন, ভবনের ভেতরে আগুনের তীব্রতা অতটা বেশি ছিল না।
‘তবে পুরো ভবন ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। এতে শ্বাস নিতে গুরুতর সমস্যা হয়। এখানেই ভবনের বায়ু চলাচল ব্যবস্থায় গুরুতর গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসছে।’
এ ঘটনায় কলকাতার নিউ মার্কেট থানায় মামলা করা হচ্ছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ ভবনটির মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। তার বাসভবনে এরই মধ্যে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।