পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় আগুন লাগা হোটেলটিতে ঢোকা এবং বের হওয়ার পথ ছিল একটিই; ছিল না কোনো জরুরি নির্গমন পথ বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। ঘটনাস্থল থেকে বেঁচে ফেরা হোটেলের অতিথি ও স্থানীয় এক বিজেপি নেতার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার ১৫এইচ মির্জা গালিব স্ট্রিটে পাঁচতলা শিখা ইন হোটেলে আগুন লাগে। এতে নয়জন নিহত হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই বলছে, নিহতরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।
একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল রাতে শিখা ইন হোটেলের দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠ থেকে আসা হোটেলের অতিথি আমিরুল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি আমার বন্ধুর সঙ্গে এসেছিলাম। পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক ছিল। সত্যি বলতে আমরা কীভাবে যে বেঁচে ফিরেছি, জানি না। সেখানে কোনো ফায়ার অ্যালার্ম বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। কয়েকজন মারা গেছেন।’
ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এক বন্ধু আমাকে খবর দেয়। আমি রাত আড়াইটায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। ততক্ষণে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে।
‘মানুষকে উদ্ধার করা হচ্ছিল এবং কয়েকজনকে অচেতন অবস্থায় বের করে আনা হয়।’
‘অবৈধভাবে চলছে হোটেলগুলো’: বিজেপি নেতা
রাজ্যে ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠক অভিযোগ করেন, এলাকাটির বেশিরভাগ হোটেল অবৈধভাবে চলছে। সেগুলোতে কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, ‘তারা কোনো নিয়মকানুন মানে না। আমরা বহুবার এ নিয়ে কথা বলেছি। ক্ষেত্রবিশেষে অনেকের লাইসেন্সও নেই। এখানে অবৈধ নির্মাণ রয়েছে। রাতারাতি আবাসিক ভবনকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে। অথচ পুলিশ স্টেশন এবং ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন এখান থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে।’
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকাটি নিউ মার্কেট থানার অধীনে। কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট এবং ফ্রি স্কুল স্ট্রিটসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে অনেক হোটেল রয়েছে; যেগুলো বাংলাদেশিসহ বিদেশি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।