ইউক্রেন জুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জাপোরিঝঝিয়া শহরে। হামলায় উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, রাশিয়া তার মিত্র উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনা পাচ্ছে বলে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সতর্ক করেছিলেন। এর পরদিনই ইউক্রেনে রাতভর এই হামলা চালানো হলো।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এরই মধ্যে ইউক্রেনে রাশিয়ার চার বছর ধরে চলা আগ্রাসনকে সমর্থন দিতে হাজার হাজার সেনা এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি কাজে লাগাতে চাইছে রাশিয়া। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর এই ঘাটতি আরও বেড়েছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ইরান যুদ্ধের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ অর্থাৎ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো, উত্তর কোরিয়ার সামরিক সরঞ্জাম আনা এবং সেনা সমাবেশের প্রস্তুতির এসব পদক্ষেপই দেখাচ্ছে যে মস্কো শান্তির জন্য নয়, বরং সংঘাত আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
এদিকে রাশিয়ার রাতভর হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়া। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ছয়জন নিহত ও আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। জাপোরিঝঝিয়া সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন। এতে ভবন ও যানবাহনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
জেলেনস্কি বলেন, ‘শহরটিতে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র এবং গাইডেড বোমা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ক্ষতি করাই ছিল এই নৃশংস হামলার উদ্দেশ্য।’
নিহত সবাই জাপোরিঝস্তাল স্টিল কারখানার কর্মী ছিলেন। কারখানাটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিমান হামলার সতর্কতা জারির পর কর্মীরা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময়ই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা হয়। এতে তাদের আরও ২১ সহকর্মী আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতের হামলায় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভে একটি সংক্রামক রোগের হাসপাতালেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এ ছাড়া সংঘাতের সম্মুখসারির শহর খেরসন ও খারকিভে হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
দক্ষিণাঞ্চলীয় মিকোলাইভ শহরে রুশ ড্রোন হামলায় ৭৫ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির সামরিক প্রশাসনের প্রধান। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলায় ইউক্রেনের কিয়েভ ও জাপোরিঝঝিয়া শহরের প্রতিরক্ষা শিল্পের স্থাপনা এবং পরিবহন ও সরবরাহকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর আলেক্সান্দর গুসেভ জানিয়েছেন, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি গুদামে আগুন ধরে যায়।
কোন গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা গুসেভ জানাননি। তবে রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ জানিয়েছে, ভোরোনেজে তাদের লজিস্টিক স্থাপনা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেনের হামলার অন্যতম নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু।
গুসেভ বলেন, রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো ভোরোনেজ শহর ও আশপাশের পাঁচটি জেলায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা বৃদ্ধি করছে।