তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের স্বাক্ষর করা নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসর যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের মধ্যে যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করতে তিন দেশ এই জোট গড়ে তুলেছে।
গত শুক্রবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এতে বলা হয়, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যুদ্ধের প্রভাব পুরো অঞ্চলের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর পড়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে গতকাল শনিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, পরবর্তী ধাপে মিসরও এই জোটে আমাদের সঙ্গে থাকবে। আমরা এরই মধ্যে একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে কাজ করছি, যেন আমরা জোটের সদস্য।
‘কিছু কারিগরি বিষয় রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হয়ে গেলে মিসরের এতে যোগ না দেওয়ার কোনো কারণ নেই।’
ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা
ফিদান বলেন, চুক্তিটি কারিগরিভাবে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো। ন্যাটোর ওই অনুচ্ছেদে জোটের সদস্যদের জন্য যৌথ প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
চুক্তি সইয়ের পর তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই চুক্তি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াবে। তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চুক্তিটি ইরান বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। আমরা লিখিতভাবে কোনো অভিন্ন হুমকি নির্ধারণ করিনি।
‘বরং সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তার প্রতি সাধারণভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার হিসেবেই এই চুক্তি করা হয়েছে।’