ইরাকের রাষ্ট্র-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) বিভিন্ন স্থাপনায় চালানো মার্কিন ও সৌদি হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হারাকাত হিজবুল্লাহ আল-নুজাবার নেতা আকরাম আল-কাবি। হারাকাত হিজবুল্লাহ আল-নুজাবা ইরান-সমর্থিত পিএমএফের অংশ।
আল জাজিরার আজ রোববারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আকরাম আল-কাবি এক বিবৃতিতে বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা ‘অর্থহীন’। পিএমএফের ওপর চালানো হামলার প্রতিশোধ নিতে সৌদি আরবকে ‘উপযুক্ত সামরিক জবাবের’ মাধ্যমে শায়েস্তা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্রের জবাব দিতে হয় ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে। আর আগুনের জবাব দিতে হয় আগুন দিয়ে।’
সৌদি আরব ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে ওই যৌথ বিমান হামলা চালানো হয়। এসব গোষ্ঠী ইরাকে মার্কিন সেনা ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়।
পিএমএফ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব গত ২৮ জুলাই ইরাকের রাজধানী বাগদাদসহ ওয়াসিত, নিনেভে, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশে তাদের ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
এতে পিএমএফের অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হন। আহত হন আরও ৩২ জন।
গত শুক্রবার বাগদাদে সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান খালিদ বিন আলী আল-হুমাইদানের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি।
এসময় ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আবারও প্রতিশ্রুতি দেন, কোনো দেশের ওপর হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ডকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
পিএমএফের ওপর হামলার জেরে রিয়াদ সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেছিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সৌদি গোয়েন্দাপ্রধান তাকে আবারও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
পিএমএফ কী
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার দাবি করা পিএমএফ ইরাকের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ। এক দশকেরও বেশি আগে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এই বাহিনী গঠন করা হয়।
পিএমএফ ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর অধীন একটি সংগঠন, যার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ইরাকে প্রভাব বিস্তার করে আসছে ইরান। সংগঠনটি মূলত শিয়া আধাসামরিক গোষ্ঠীগুলোর সমন্বয়ে গঠিত।
২০১৪ সালে আইএস ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকায় অগ্রসর হলে দেশটির সরকার সাধারণ নাগরিকদের রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়ে লড়াইয়ের আহ্বান জানায়।
এরপর নতুন স্বেচ্ছাসেবক এবং আগে থেকেই সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পিএমএফের অধীনে আনা হয়।
আইএসকে পরাজিত করা এবং ইরাকের বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখলে পিএমএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীটিকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পিএমএফের কয়েকটি প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস এবং ইয়েমেনের হুতিদের পাশাপাশি ইরাকের পিএমএফ ইরানের প্রতিরোধের অক্ষের অংশ হিসেবে বিবেচিত।