শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের পানি সাশ্রয়ে সহায়তা করতে একটি সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওভিডো শহরের ১১ বছর বয়সী নবশ্রী সান্ত্রা। জ্যাকসন হাইটস মিডল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এই ছাত্রী এমন বিশেষ ‘সয়েলশেড বল’ তৈরি করেছে, যা প্রাকৃতিকভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। এই বলগুলো মাটি থেকে পানির বাষ্পীভবন কমায় এবং দীর্ঘ সময় মাটিকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নবশ্রীর এই উদ্ভাবন এ বছরের ৩এম ইয়াং সায়েন্টিস্ট চ্যালেঞ্জের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। সেখানে বিজয়ী হলে সে ২৫ হাজার মার্কিন ডলারের পুরস্কার জিতবে।
৩এম ও ডিসকভারি এডুকেশনের ৬ জুলাই প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত ১০ জন শিক্ষার্থীর একজন নবশ্রী। এটি প্রতিযোগিতাটির ১৯তম আসর।
পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের জ্ঞান ব্যবহার করে দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সমস্যার সমাধান খুঁজতে উৎসাহিত করা হয়।
ইয়াং সায়েন্টিস্ট ল্যাবের ওয়েবসাইটে নবশ্রী সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে নবশ্রী এটি উদ্ভাবন করেছে। শুষ্ক কৃষিজমিতে সহজ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সে এটি নকশা করেছে।
নিজের প্রোফাইলে নবশ্রী জানিয়েছে, কেন সে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এবং অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
প্রোফাইলে বলা আছে, ‘খরা মোকাবিলায় আমার প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি, এটিকে আরও উন্নত করার অনেক সুযোগ রয়েছে। তাই আমি ৩এম ইয়াং সায়েন্টিস্ট চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছি। আমি জানতে চাই, কীভাবে আমার জৈবভাবে পচনশীল মালচকে (মাটির ওপর বিছিয়ে দেওয়া একটি আবরণ, যা মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে, আগাছা কমাতে এবং মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে) বাস্তব জীবনে আরও কার্যকর একটি সমাধানে পরিণত করা যায়।
‘বিশেষ করে অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের পরামর্শ ও মতামত পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। এতে আমার কাজের সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করতে এবং খরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য এর কার্যকারিতা আরও বাড়াতে পারব।’
এই কিশোরী আরও বলে, ‘আমি নতুন কিছু শিখতে এবং অন্যদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে ভালোবাসি। একই সঙ্গে আমার সহ-প্রতিযোগীদের উদ্ভাবন থেকেও শেখার অপেক্ষায় আছি।
‘তাদের ধারণা কীভাবে আমার প্রকল্পকে আরও উন্নত করতে পারে, কিংবা আমার ধারণা কীভাবে তাদের কাজে লাগতে পারে, সেটিও দেখতে চাই।’