ইরানের কেশম দ্বীপে এক আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এক দম্পতি ও তাদের দুই বছরের সন্তান রয়েছে। গতকাল বুধবার রাতের এই হামলায় ওই দম্পতির আরও দুই সন্তান আহত হয়। হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।
এই হামলার ঘণ্টাখানেক পর যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, ইরানের ‘সামরিক স্থাপনা’ লক্ষ্য করে বুধবার রাতে দুই ঘণ্টা ধরে অভিযান চালানো হয়।
অন্যদিকে কুয়েতে চীনা কোম্পানির একটি ভবন লক্ষ্য করে ইরানের হামলায় একজন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।
আল জাজিরা ও মিডল ইস্ট আই আজ বৃহস্পতিবার এই খবর নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি এদিন প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কেশম দ্বীপের চাহ-তাঙ্গো এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের খুঁজছেন উদ্ধারকর্মীরা।
আবাসিক ভবনটিতে ওই দম্পতির বেঁচে যাওয়া দুই শিশুকে চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের একজনের বয়স ৯; অপরজনের ৭ বছর।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালানো হয়।
এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক কমান্ড সেন্টার ও ড্রোন স্থাপনাও রয়েছে। বুধবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা থেকে অভিযান শুরু হয়ে রাত ২টায় শেষ হয়।
এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলে একটি চীনা কোম্পানির ভবন লক্ষ্য করে ইরানের হামলায় একজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর মেজর জেনারেল সৌদ আবদুলআজিজ আল-ওতাইবি বলেন, হামলায় ভবনটির উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।