যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাতের প্রভাব পশ্চিম এশিয়ায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও পড়েছে। এর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি পর্যটকদের জনপ্রিয় গন্তব্য দুবাইও; যেখানে সাধারণত প্রতি বছরই রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে।
এ পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ‘দুবাই ইনভাইট’ নামে নতুন এক কর্মসূচি চালু করেছে।
এর আওতায় আমিরাতের নাগরিক ও বাসিন্দারা পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের দুবাই ভ্রমণের জন্য আমন্ত্রণ জানালে খাবার, হোটেলে থাকা এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে প্রবেশের সুবিধাসহ বিশেষ পুরস্কার পাবেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত শুরু হয়, তার বৈশ্বিক প্রভাবের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
গত পাঁচ মাসে দুবাইয়ের কিছু এলাকাসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায় ইরান। এর ফলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ঊর্ধ্বে থাকা দুবাইয়ের ‘নিরাপদ আশ্রয়ের’ সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শহরের বেশ কিছু অবকাঠামোও সে সময় হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ধ্বংসাবশেষ এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শহরটির বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরায়।
কী থাকছে ‘দুবাই ইনভাইট’ কর্মসূচিতে
আমিরাত সরকারের ‘দুবাই ইনভাইট’ কর্মসূচির আওতায় দেশটির বাসিন্দারা তাদের বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের দুবাই ভ্রমণের জন্য মনোনীত করতে পারবেন। তারা ভ্রমণে এলে আমন্ত্রণকারী সর্বোচ্চ ৩ হাজার দিরহাম (প্রায় ৮১৬ মার্কিন ডলার) মূল্যের বিভিন্ন সুবিধা পাবেন।
ভিজিট দুবাইয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই সুবিধা প্যাকেজে রেস্তোরাঁয় মূল্যছাড়, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের টিকিট এবং হোটেলে থাকার সুযোগসহ আরও নানা সুবিধা থাকতে পারে।
আমিরাতের অর্থনীতি ও পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির প্রতিটি বাসিন্দা সর্বোচ্চ তিনটি সুবিধা প্যাকেজ পেতে পারবেন, যদি তাদের আমন্ত্রিত অতিথিরা ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দুবাই পৌঁছান।
তবে এসব সুবিধা ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে।
এই কর্মসূচির সুবিধা পেতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং তার বৈধ পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, তাদের অবশ্যই আমিরাতের বাইরে বসবাসকারী হতে হবে। বৈধ পর্যটক ভিসা নিয়ে আকাশ, সমুদ্র বা সড়কপথে তাদের দুবাইয়ে প্রবেশ করতে হবে।