ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ‘আপত্তিকর’ ও ‘অশালীন’ মন্তব্যসম্বলিত পোস্ট ও ভিডিও অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সোমবার (২৭ জুলাই) পুলিশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং ২০ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে সহিংসতার সময় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ভাষায় অসংখ্য পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ আরও জানায়, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী দল নিয়মিত বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নজরদারি করছে। আপত্তিকর কোনো পোস্ট শনাক্ত হলেই সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠিয়ে তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের পাঠানো নোটিশের পর প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা বেশ কয়েকটি মন্তব্য ও ভিডিও ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, সাইবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী দল এখনো নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। আন্দোলন-সংক্রান্ত অনলাইন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে বিধি লঙ্ঘনকারী আরও পোস্ট শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গত ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ওই কর্মসূচিতে নিট ও সিবিএসই পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এদিকে, কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধীদল সোমবার লোকসভায় মুলতবি প্রস্তাব এবং রাজ্যসভায় কার্যক্রম স্থগিতের নোটিশ জমা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর ‘নির্মম ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলপ্রয়োগ নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা দাবি করেছে।
দিল্লি পুলিশ সূত্র জানায়, সংঘর্ষে অন্তত ১৩০ জন পুলিশ সদস্য এবং ৬৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৫টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া আন্দোলন শুরুর পর থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ায় সেখানে এবং আশপাশে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।