ব্যস্ত সড়কে তখন লাল বাতি জ্বলছে, গাড়ির সারি থেমে আছে চৌরাস্তার দুই পাশে। ঠিক সেই সময় হুইলচেয়ারে থাকা এক ব্যক্তি রাস্তা পার হতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। চারপাশে দ্রুতগতির যানবাহন, সিগন্যাল বদলে যাওয়ার মুহূর্ত—পরিস্থিতি যেন ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছিল। আর তখনই ঘটে সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানানো এক ঘটনা। আর এ বিষয়টিই সম্প্রতি উঠে এসেছে বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনালের (ইউপিআই) প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের জোনসবোরো শহরের একটি ট্র্যাফিক ক্যামেরায় ধরা পড়ে, স্পাইডার-ম্যানের পোশাক পরা এক ব্যক্তি হঠাৎ একটি গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ওই ব্যক্তিকে দ্রুত ও নিরাপদে রাস্তা পার হতে সাহায্য করছেন। কয়েক সেকেন্ডের এই মানবিক উদ্যোগই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
জোনসবোরো পুলিশ বিভাগ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করার পর জানা যায়, মুখোশধারী ওই ব্যক্তি হলেন ক্রিস্টোফার হেলেনথাল। তিনি সেদিন কর্মস্থল আল্টিমেট এয়ার ট্রাম্পোলিন পার্কে আয়োজিত ‘সুপারহিরো ডে’ উপলক্ষে মার্ভেলের জনপ্রিয় চরিত্র স্পাইডার-ম্যানের পোশাক পরে ছিলেন।
হেলেনথালের ভাষায়, ‘ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক। আমি ভাবলাম, ঠিক আছে, আমি তো স্পাইডার-ম্যানের পোশাকে আছি, তাহলে এটা করা যাক। তাই আমি বেরিয়ে এসে খুব দ্রুত তাদের এগিয়ে দিলাম।’
তিনি আরও জানান, ‘যখন তিনি গাড়ি থেকে নামছিলেন, ঠিক তখনই সিগন্যালের আলো বদলে যাচ্ছিল। তাই ভিডিওতে তাকে দ্রুত দৌড়াতে দেখা যায়। তবে পুরো ঘটনায় আশপাশের চালকেরাও সহযোগিতাপূর্ণ ছিলেন। আমাদের কেউই ধাক্কা খায়নি এবং সবাই খুব ভালো ব্যবহার করছিল। কেউ হর্ন বাজায়নি বা এমন কিছুই করেনি। আমি শুধু আমার গাড়িতে উঠে চলে গেলাম।’
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, হেলেনথাল নিজেই জানতেন না যে তিনি ভাইরাল হয়ে গেছেন। পরে তার মা ফেসবুকে ভিডিওটি দেখে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন।
এই অভিজ্ঞতার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি ঘুমাচ্ছিলাম, আর মা জাগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এই, তুই ফেসবুকে আছিস?’ তারপর দেখি জোনসবোরো পুলিশ বিভাগ ভিডিওটি পোস্ট করেছে, আর লাইক-কমেন্টের সংখ্যা শুধু বাড়ছেই।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে ‘রিয়েল লাইফ স্পাইডার-ম্যান’ বলে অভিহিত করেছেন। কেউ লিখেছেন, ‘সুপারহিরো হওয়ার জন্য জাল ছোড়ার দরকার নেই, দরকার সঠিক সময়ে এগিয়ে আসার সাহস।’ আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘এই ভিডিও মনে করিয়ে দেয় মানবিকতা এখনো বেঁচে আছে।’
হেলেনথালও চান, তার এই ছোট্ট উদ্যোগ অন্যদের অনুপ্রাণিত করুক। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করিনি যে এটি এভাবে ভাইরাল হয়ে যাবে। ভেবেছিলাম এটি শুধুই মজার একটি কাজ হবে। কিন্তু আমি খুশি যে মানুষ এটি দেখছে এবং আশা করি যখনই প্রয়োজন হবে, মানুষ এগিয়ে এসে সঠিক কাজটি করবে।’