ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে ২০ জুলাই শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ‘নৃশংস হামলার’ ঘটনায় জবাবদিহি দাবি করে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এতে তিনি সেদিন শিক্ষার্থীদের দিকে ছররা গুলি ছোড়ার অনুমতি কে দিয়েছিল, সে প্রশ্ন তোলেন।
একই সঙ্গে জানতে চান, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত সাদা পোশাকের ব্যক্তিরা আসলে কে ছিলেন?
রাহুলের দাবি, ২০ জুলাই ছররা গুলিতে আহত হওয়া ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছেন। তার একটি চোখ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার আজ রোববারের প্রতিবেদনে বলা হয়, অমিত শাহকে লেখা চিঠিতে কংগ্রেসের এই নেতা বলেন, ‘দিল্লিতে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনী শেষ পর্যন্ত আপনার কাছেই জবাবদিহি করে।
‘তাই আমি জানতে চাই—১. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ছররা গুলিসহ প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন কি আপনি দিয়েছিলেন? যদি না দিয়ে থাকেন, তাহলে কে দিয়েছে? ২. সাদা পোশাক পরা যাদের শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করতে দেখা গেছে, তারা কি পুলিশ সদস্য, নাকি স্বেচ্ছাসেবক? তাদের মোতায়েনের অনুমতি কে দিয়েছে?’
আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আলোচনার মাধ্যমে তাদের অভিযোগের সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন রাহুল।
চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ যেকোনো গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সংলাপের মাধ্যমে তাদের অভিযোগের সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব।
‘এ ধরনের নৃশংস সহিংসতা সব ধরনের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ভেঙে দিয়েছে এবং সারা দেশকে ক্ষুব্ধ করেছে। দেশের ভবিষ্যৎ তরুণ ও শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার জবাবদিহি চাইছে। তাদের কণ্ঠস্বর অবশ্যই শোনা হবে।’
এর আগেও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন রাহুল।
তিনি বলেন, নিজেদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা ‘ন্যায়বিচারের’ বদলে ‘ছররা গুলি’ পাচ্ছে।
গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে এক তরুণকে দেখা যায়, যিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দিল্লি পুলিশের মারধরের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
পোস্টে রাহুল লেখেন, ‘সাহিল হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। সে সেখানে গিয়েছিল কেবল স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমের ফল পাওয়ার আশায়। কিন্তু পুলিশ তাকে ছররা গুলি ছুড়ে গুরুতরভাবে আহত করে।
‘এটি ব্রিটিশ শাসনের বর্বরতা নয়; এটি স্বাধীন ভারতের মোদি সরকারের নির্মমতা, যেখানে নিজেদের অধিকার দাবি করা নিরীহ শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের বদলে ছররা গুলির মুখোমুখি হচ্ছে।’