মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক তার ২৬ দিনের অনশন ভেঙেছেন। তবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাদের আন্দোলন চলবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আজ শুক্রবার সকালে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি তাদের এই অবস্থানের কথা জানায়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোস্টে সিজেপি লিখেছে, ‘সোনম স্যার ২৬ দিন পর অনশন প্রত্যাহার করায় আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
‘তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে আমাদের আন্দোলন চলবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দিল্লির মেদান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও পরমাণু শক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অনশনকারীর সঙ্গে দেখা করে সরকারের আশ্বাসের কথা জানান। এরপরই অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন এই শিক্ষাবিদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সোনম জানান, সরকার আশ্বাস দিয়েছে, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিয়ে ভারতীয় পার্লামেন্টে আলোচনা হবে।
পাশাপাশি এ বছরের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা ২০ জন শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার বিধান রেখে পার্লামেন্টে একটি বিল আনা হবে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এমন ঘোষণারও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিজেপি।
তারা বলেছে, পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার যদি সত্যিই সবচেয়ে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নিতে চায়, তবে তা হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদচ্যুত করা।
প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণার জবাবে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘মোদিজি, কালই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরান। এটাই হতে পারে আপনার সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ।’
একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ছবি শেয়ার করেন।
ছবিটিতে দেখা যায়, সীমানা প্রাচীর ছাড়া ফাঁকা জায়গায় একটি গেটে এক ব্যক্তি তালা লাগাচ্ছেন।
মূলত প্রস্তাবিত আইনটিকে ব্যঙ্গ করতেই তিনি এ ধরনের ছবি শেয়ার করেন।