হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও স্থবির হয়ে পড়ায় জ্বালানি তেলের বাজার নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে। এর ফলে গত মার্চ থেকে প্রতিদিন বাজার থেকে লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উধাও হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রথম দফার ধাক্কায় তেলের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে যে বড় ধরনের আপৎকালীন মজুত বিশ্বকে রক্ষা করেছিল, এবার সেই কৌশলগত অপরিশোধিত তেলের রিজার্ভই ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
সিএনএন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গতকাল বুধবারের একটি ব্লগ পোস্ট অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে প্রতিদিন বাজারে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেলের যে ঘাটতি ছিল, তা পূরণ করা হয়েছিল জরুরি মজুত থেকে তেল তুলে।
ইরান যুদ্ধ চলাকালে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের জরুরি রিজার্ভ থেকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ে।
পাশাপাশি চীনও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়ে নিজেদের শোধনাগারগুলোর উৎপাদন হ্রাস করে এবং অভ্যন্তরীণ মজুতের ওপর নির্ভর করে বৈশ্বিক ঘাটতি মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখে।
তবে আইএমএফ এখন বলছে, সরবরাহের সেই বড় ধাক্কা সামাল দেওয়ার মতো মজুতের সিংহভাগই শেষ। প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছিল, কারণ জ্বালানি বাজারের তখন পরিস্থিতি ও সংকট সামাল দেওয়ার মতো যথেষ্ট সুযোগ ছিল।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই আপৎকালীন মজুত যদি পুনর্গঠন করা না হয়, তাহলে পরবর্তী কোনো ধাক্কা এলে বিশ্ব আরও দুর্বল অবস্থানে থেকে তা মোকাবিলা করতে বাধ্য হবে।
চলতি সপ্তাহে শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাক্স তাদের এক গবেষণা নোটে জানিয়েছে, মে মাসের রেকর্ড মূল্যের পর তেলের দাম কিছুটা কমে আসায় চীন এখন নিজেদের ফুরিয়ে যাওয়া মজুত আবার গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও বেশি অপরিশোধিত তেল কেনার কথা ভাবছে।