বেলুচিস্তান প্রদেশে চলমান ‘অপারেশন শাবান’-এ আরও তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। ফলে এই অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি নিউজের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটির তথ্যমতে, ৫ জুলাই থেকে বেলুচিস্তানে অপারেশন শাবান এবং অন্যান্য গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১০৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) ও বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান শুরু করে।
পিটিভি নিউজ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে আকাশ ও স্থল—উভয় পথেই অভিযান চলছে। পাকিস্তান সরকার টিটিপিকে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে।
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ৫ জুলাই থেকে কোয়েটা জেলার শাবান এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে আসছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস ও পুলিশ। মাঙ্গি ড্যাম পাম্পিং স্টেশনের পুলিশ পোস্টে হামলায় জড়িত জঙ্গিদের লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
আরও বলা হয়, ওই হামলায় প্রথমে ৯ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এরপর অস্ত্রের মুখে আরও ১৮ পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে জারঘুন গার পর্বত এলাকায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রোববার আরও তিন জঙ্গি নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন।
পিটিভি নিউজের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নাকভি বলেন, ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস ও পুলিশের এই অভিযান জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিফলন। পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জনগণ নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে রয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘বেলুচিস্তানে ধারাবাহিক বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পর দেশের বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে যৌথ ও অভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
কোয়েটায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) বিষয়ক প্রাদেশিক অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করে শাহবাজ বলেন, ‘একটি বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে—বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতেই হবে।’
এই বৈঠকের একদিন আগে দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ৫ জুলাই থেকে বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ও পরবর্তী অভিযানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন বেসামরিক নাগরিক, ২৭ জন পুলিশ সদস্য এবং ১১ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।’