মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ গতকাল মঙ্গলবার ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে পৌঁছেছে। ইরানে চারদিনব্যাপী শেষবিদায়ের অনুষ্ঠান শেষে শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র এই স্থানে গতকাল রাতে তার কফিন নিয়ে আসা হয়।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কফিনটি গ্রহণ করেন। সেখানে আজ বুধবার বিশেষ জানাজা এবং শোকমিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে নাজাফ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা হজরত আলী (রা.)-এর মাজার রয়েছে।
খামেনির এই বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এরই মধ্যে নাজাফে পৌঁছেছেন।
গত শুক্রবার থেকে ইরানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে ইরান শাসন করা এই নেতার প্রয়াণের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের এই বিশাল আয়োজনকে একই সঙ্গে ধর্মীয় আবহে শোক এবং শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা প্রদর্শনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, খামেনির কফিন পৌঁছানোর আগেই ইরাক এবং প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শোকার্ত মানুষের ঢল নামায় নাজাফজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ।
সূচি অনুযায়ী, এই শোকমিছিল ইরাকের আরেকটি পবিত্র শহর কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর ইরানে খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে মরদেহ ফিরিয়ে এনে সেখানে তাকে সমাহিত করা হবে।