যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তেহরানে আজ রোববার অনুষ্ঠিত এ জানাজায় লাখো মানুষের সঙ্গে অংশ নেন তার তিন ছেলে।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া অপর ছেলে মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয়, এদিন তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা চত্বরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ ও ১৪ মাস বয়সী নাতনির মরদেহ রাখা হয়। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার তিন ছেলে মোস্তফা খামেনি, মেয়সাম খামেনি ও মাসুদ খামেনি মরদেহের পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছেন। একপর্যায়ে তাদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি জনসমর্থন ও বিপ্লবী উদ্দীপনা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে খামেনির জন্য সপ্তাহব্যাপী গণজানাজা ও শোকমিছিলের আয়োজন করে ইরান সরকার। এর অংশ হিসেবে তার মরদেহ প্রতিবেশী ইরাকের শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র স্থানগুলোতেও নিয়ে যাওয়া হবে।
গত শুক্রবার ইরানের সামরিক-বেসামরিক জ্যেষ্ঠ নেতা ও বিদেশি কর্মকর্তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনিসহ ওই পাঁচ জনের মরদেহ রাখা হয়।
পরদিন শনিবার খামেনির কফিনটি বাইরে একটি কাচের বাক্সে প্রদর্শন করা হয়। তার মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ ও ১৪ মাস বয়সী নাতনির কফিনও সেখানে রাখা হয়।
তেহরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিমান হামলায় খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা আহত হন বলে জানা গেছে। হামলার পর এখন পর্যন্ত ইরানের নতুন এই সর্বোচ্চ নেতার প্রকাশ্য উপস্থিতি কিংবা ছবি প্রকাশ করা হয়নি।
মোজতবার ঘনিষ্ঠ মহলের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলায় মোজতবার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায়। তার একটি বা দুটি পা-ই মারাত্মকভাবে জখম হয়।