হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের যে ঘোষণা ইরান দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশটিকে আরও সতর্ক হতে হবে। কারণ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ তেহরানের শত্রুদের চেয়ে বন্ধুদেরই বেশি সুবিধা দেয় বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুসতাই।
আজ রোববার আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী একটি হাতিয়ার। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই কার্ডটি খেলার সময় ইরানকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা সীমা অতিক্রম না করে।’
গত বুধবার কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের প্রথম দফাতেই স্পষ্ট বলা আছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান ‘অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে’ বন্ধের ঘোষণা দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র এতে সম্মতি দিলেও তার মিত্র ইসরায়েল গতকাল শনিবার লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। এতে প্রাণ হারান বহু মানুষ।
এর প্রতিক্রিয়ায় গতকালই হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি); যা সমঝোতা স্মারক কার্যকরের পর খুলে দেওয়া হয়েছিল।
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি কয়েকবার বন্ধ করে ইরান।
দেশটির এই পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করে নিরাপত্তা বিশ্লেষক পুসতাই বলেন, ‘আমাদের মনে রাখা দরকার, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা বেশিরভাগ বাণিজ্যিক জাহাজ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের দিকে যায় না। এগুলো মূলত ভারত, চীন এবং পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়।’
‘ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যত বেশি বাধাগ্রস্ত হবে, তা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে,’ যোগ করেন এই বিশ্লেষক।