ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আজ রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিক্ষোভ জোরদার করতে ভারতের সব অঞ্চলের কৃষকদের যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভস্থল ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তাতে কর্ণপাত করছে না সিজেপি।
এদিকে এদিন ভারতের সবচেয়ে বড় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্ট (এনইইটি) পুনরায় নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় গত মাসে নেওয়া এ পরীক্ষা বাতিল করা হয়। নতুন করে এ ভর্তি পরীক্ষা ২১ জুন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ভারতের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী আজ এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের কোনো রকম ভয় বা দুশ্চিন্তা ছাড়া পরীক্ষায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি জানান, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ), রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন, শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহল এবং শিক্ষার্থীদের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
গত মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করে তার পদত্যাগের দাবি জানায় ককরোচ জনতা পার্টি। কিছুদিন আগে তারা যন্তর মন্তরেই প্রথম বিক্ষোভ করেছিল।
৭ জুনের সেই বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনসে স্নাতক করা অভিজিৎ বলেছিলেন, ভারতে বিভিন্ন পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত থামবে না।
গত মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আদালতে এক শুনানির সময় মন্তব্য করেছিলেন, কিছু ‘পরজীবী’ বিচারব্যবস্থাকে আক্রমণ করছে।
সেদিন ভারতের তরুণ সমাজকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেছিলেন, ‘এরা কোনো চাকরি পায় না এবং পেশাগত জগতেও এদের কোনো স্থান নেই।’
এর প্রতিবাদে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে মিল রেখে ককরোচ জনতা পার্টি নামের দলটি প্রতিষ্ঠা করেন অভিজিৎ।