ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যকে ‘মনগড়া’ ও ‘অপমানজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘মিনতি করেছিলেন’ এবং ট্রাম্প ‘দয়া করে’ সেই ছবি তুলতে রাজি হন।
ইতালীয় টেলিভিশন চ্যানেল এলএ৭-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘সে (মেলোনি) আমার সঙ্গে ছবি তুলতে খুবই আগ্রহী ছিল। আমি আসলে ছবি তুলতাম না, কিন্তু তার জন্য আমার খারাপ লেগেছিল। হয়তো আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি বলে সে খুশি। আমার তো তার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন ছিল না।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মেলোনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া। আমি সত্যিই বিস্মিত। আমি জানি না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনক হলো, পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের ক্ষেত্রে তিনি এমন দৃঢ় অবস্থান দেখান না। বরং তাদের নেতাদের প্রতি অনেক বেশি সহনশীলতা প্রদর্শন করেন। একটি বিষয় তার মনে রাখা উচিত, আমি কিংবা ইতালি কখনও কারও কাছে মিনতি করেনা।’
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে এর প্রতিবাদ হিসেবে আগামী ২১ ও ২২ জুনের নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গুরুতর ও অপমানজনক মন্তব্য পুরো ইতালিকেই অপমান করেছে।’
এর আগে, জি-৭ সম্মেলনের পর মেলোনি বলেছিলেন, সম্মেলনে ‘খুবই ইতিবাচক পরিবেশ’ ছিল এবং ট্রাম্প ও অন্য বিশ্বনেতাদের মধ্যে ‘কোনো বিরোধ’ দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন মেলোনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইস্যুতে দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় পোপ পোপ চতুর্দশ লিও-এর সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তখন পোপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন মেলোনি।
এর জবাবে ট্রাম্প একটি ইতালীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি তার আচরণে বিস্মিত। আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ন্যাটো ইস্যুতে ইতালি যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সহায়তা করছে না। এমনকি তিনি ইতালি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারেরও হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের সময় রোম আমাদের কোনো সহায়তা করেনি।’
সাম্প্রতিক এই বাকযুদ্ধকে ওয়াশিংটন ও রোমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স