ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইরানের অর্থনীতির মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে পারে। শুক্রবার (১৯ জুন) সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের জ্বালানিমন্ত্রী ড্যান ব্রুইলেট।
গত বুধবার রাতে ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারক জ্বালানি তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের জোট ওপেক সদস্যভুক্ত দেশ ইরানকে তেল ও জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দিয়ে তাদের অর্থনীতির চাকা আবার সচল করার সুযোগ করে দিয়েছে।
এটি তেহরানের জন্য তাৎক্ষণিক সঞ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই জ্বালানিমন্ত্রী।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির বিশিষ্ট ভিজিটিং ফেলো হিসেবে কর্মরত ব্রুইলেট বলেন, ‘এটি তাদের (ইরানের) জন্য বিরাট সুবিধাজনক একটি বিষয়।’
২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ছিলেন ব্রুইলেট।
তিনি বলেন, ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ দেশটির অর্থনীতির ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করেছিল, যা তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে ‘খুবই কার্যকর’ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, ইরানে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়ে ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে বেকারত্ব ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট চলছে।
ব্রুইলেট বলেন, ‘ইরানের জনগণ এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। তাদের বেশ কিছু অবকাঠামো এখন পুনর্নির্মাণ করা হবে, যা তাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।’
সিএনএন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সমঝোতা স্মারক মার্কিন রাজনীতিতে প্রধান দুটি দলের (রিপাবলিকান পার্টি ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টি) মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
অনেকের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সিএনএনকে বলেন, এই চুক্তি তোষণনীতির শামিল।
অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি একে ‘কয়েক দশকের মধ্যে পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী ব্রুইলেটও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই চুক্তি ইরানের প্রতি ‘একটু বেশিই উদার’। বিশেষ করে চুক্তি বাস্তবায়নের শুরুতেই ইরানকে তাৎক্ষণিকভাবে তেল বিক্রির অধিকারের মতো ‘কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা অগ্রিম’ দেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, তেল ও জ্বালানি বিক্রি করে ইরান বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলার আয় করতে পারে। অতীতে ইরান তাদের এই আর্থিক সম্পদ ব্যবহার করে এমন সব সংস্থাকে অর্থায়ন করেছিল, যারা ওই অঞ্চলে তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেরও চরম শত্রু ছিল।
ব্রুইলেট বলেন, ‘আমাদের এই বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখতে হবে। ইরান যদি বিশ্বজুড়ে আবারও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করা শুরু করে, তাহলে এই চুক্তির কার্যকারিতা সেখানেই শেষ হয়ে যাবে।’