ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে সংঘাতের সূচনাকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, ক্ষমতার পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে ইরান।
অথচ আমরা আজ এমন এক পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন ও ইরানি শাসকগোষ্ঠী কার্যত সমানে সমান অবস্থানে থেকে ১৪ দফার চুক্তিতে উপনীত হয়েছে।
আমরা আজ এক শক্তিশালী ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে দেখছি, যারা তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন পার করে এসেছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলিদের যৌথ হামলা, যার মূল লক্ষ্যই ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো, ইরানিরা শক্তভাবে তা মোকাবিলা করেছে। সেই পতন আর ঘটেনি।
গত কয়েক বছর ধরে ইরান বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, প্রথমত তাদের পরমাণু কর্মসূচির পেছনে এবং দ্বিতীয়ত লেবাননের হিজবুল্লাহ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পেছনে।
কিন্তু এই যুদ্ধে তারা বুঝতে পেরেছে, পরমাণু অস্ত্র বা আঞ্চলিক মিত্রদের চেয়েও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া অনেক কম ব্যয়বহুল এবং বহুগুণ শক্তিশালী এক কৌশল।
এটি এমন এক কার্যকর অস্ত্র, যা সরাসরি রণক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে পরমাণু অস্ত্রের হুমকি কেবল মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ হিসেবেই কাজ করে, যা বাস্তবে সহজে ব্যবহার করা যায় না।
সবাই এখন খুব ভালো করেই জানে, ইরান যদি চায়, তাহলে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে গোটা কয়েক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তারা আবারও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি অচল করে দিতে পারবে।
আর এই বাস্তবতাই তেহরানের শাসকগোষ্ঠীকে মানসিকভাবে এক বিশাল শক্তির জোগান দিচ্ছে।
তবে এটিও ভুলে গেলে চলবে না, ইরান এই যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটির অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে কয়েকশ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা মেরামত করা প্রয়োজন।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে যেসব অর্থনৈতিক সুবিধার কথা বলা হয়েছে, তা হয়তো ইরানকে পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতার পথে এগোতে উৎসাহিত করতে পারে।
তাদের মধ্যে এমন ভাবনাও তৈরি হতে পারে, এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোই হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
জেরেমি বোয়েন বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক
বিবিসি থেকে নেওয়া