লাখ লাখ শিক্ষার্থীর গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক দিন আগে মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। সরকারের এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কোম্পানিটি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজে এই অ্যাপটি ব্যবহার করা হয়েছিল, এমন অভিযোগের জেরে মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভারতে টেলিগ্রাম ব্লক করে দেওয়া হয়। পরদিন কোম্পানিটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামে।
ভারত সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব হবে। গত মাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাটি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়ার পর আগামী রোববার তা আবার হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে টেলিগ্রামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পাভেল দুরভ এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তার ভাষ্য, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে লাখ লাখ সাধারণ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, অথচ প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের ঠেকাতে এটি তেমন কোনো কাজেই আসবে না।
আইনিবিষয়ক ওয়েবসাইট লাইভ ল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার টেলিগ্রামের আইনজীবীরা বিষয়টি দিল্লি হাইকোর্টের নজরে আনেন।
আদালতের বিচারপতি এদিন পরবর্তী সময়ে মামলাটির শুনানির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।
এর আগে দুরভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়ে এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি যুক্তি দেখান, নিষেধাজ্ঞা ‘কোনো কিছুই থামাতে পারবে না’, কারণ যারা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তারা এরই মধ্যে অন্য অ্যাপে চলে গেছে।
টেলিগ্রামকে একটি ‘কল্যাণকর শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে সিইও বলেন, প্ল্যাটফর্মটি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এ-সংক্রান্ত জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত শত শত চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত ভারতের সবচেয়ে বড় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্টের (এনইইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে। প্রতি বছর লাখো শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন।
গত মাসে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
বর্তমানে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই) এই ঘটনার তদন্ত করছে। এ পর্যন্ত ডজন খানেকেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।