তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী লোকসভার সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৯ জনের নামের তালিকা অবশেষে সামনে এসেছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান এবং অভিনয়শিল্পী শতাব্দী রায়, দীপক অধিকারী (দেব), জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ ও রচনা ব্যানার্জি।
বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, গত ১৮ মে লোকসভার স্পিকারের কাছে ওই চিঠি জমা দেন বিদ্রোহীরা। দলছুট এই সংসদ সদস্যদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রবীণ তৃণমূল নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
শুক্রবার (১২ জুন) টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লোকসভায় তৃণমূলের মোট সদস্যসংখ্যা ২৮। কংগ্রেসের ৯৯ ও সমাজবাদী পার্টির ৩৭ সদস্যের পর এটি ছিল তৃতীয় বৃহৎ বিরোধী দল।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যসংখ্যা ১৯, যা লোকসভায় তৃণমূলের মোট সংসদ সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। ফলে তারা দলবদলবিরোধী আইন এড়িয়ে যেতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তৃণমূলের বিদ্রোহীরা সম্প্রতি জোর দিয়ে বলেছেন, তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সে (এনডিএ) যোগ দেবেন না; কেবল বাইরে থেকে এটিকে সমর্থন জানাবেন।
তৃণমূলের ১৯ বিদ্রোহী সংসদ সদস্যের তালিকা—
১. কাকলি ঘোষ দস্তিদার
২. শতাব্দী রায়
৩. দীপক অধিকারী (দেব)
৪. জুন মালিয়া
৫. সায়নী ঘোষ
৬. রচনা ব্যানার্জি
৭. ইউসুফ পাঠান
৮. অরূপ চক্রবর্তী
৯. অসিত কুমার মাল
১০. শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়
১১. খলিলুর রহমান
১২. আবু তাহের খান
১৩. জগদীশ বর্মা বসুনিয়া
১৪. মিতালি বাগ
১৫. মালা রায়
১৬. কালিপদ সোরেন
১৭. বাপি হালদার
১৮. শর্মিলা সরকার
১৯. পার্থ ভৌমিক
এর আগে তৃণমূল তার বিধায়কদের বিদ্রোহের মুখে পড়ে। দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি দাবি করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই বিরোধী গোষ্ঠীর অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
গত এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল প্রধান ও রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ভেতরে বিদ্রোহের মুখে পড়েন।
ওই নির্বাচনে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। নির্বাচনে তাদের হারিয়ে রাজ্যে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে বিজেপি।