মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবার সুদহার বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমার পাশাপাশি সাপ্তাহিক হিসেবেও পণ্যটি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি কার্যকরের প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যার সরাসরি ধাক্কা লেগেছে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের বাজারে।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট নাগাদ স্পট গোল্ড বা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ৪,৪৪৫.৫১ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৭১.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মূলত ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ মিলিশিয়ারা লেবাননে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা এবং ইসরায়েল সে দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার না করার ঘোষণা দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। লেবাননে যুদ্ধ থামিয়ে তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করার যে প্রচেষ্টা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চালাচ্ছিলেন, এই ঘটনায় তা বড় ধাক্কা খেয়েছে।
এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্রাপেল বলেন, ‘ইরান সংঘাতের অবসান নিয়ে তৈরি হওয়া একধরনের হতাশা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর পাশাপাশি মার্কিন বাজারে সুদের হার আরও কঠোর বা বৃদ্ধির একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা স্বর্ণের দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।’
সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতিজনিত লোকসান এড়ানোর একটি নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে দেখা হলেও, সুদের হার বাড়লে এই অনুত্পাদনশীল ধাতুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২.৩৬ ডলারে নেমে এসেছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১,৮৮০.৪০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,২৯৮.৪৯ ডলারে ঠেকেছে। এর ফলে প্রতিটি মূল্যবান ধাতুই চলতি সপ্তাহে সার্বিক লোকসানের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম
ঈদের পর দেশের স্বর্ণবাজারেও এসেছে স্বস্তির খবর। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ২ জুন সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দামে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি প্রতি দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি প্রতি মূল্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।