যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান দিয়েগো শহরের এক মসজিদে বন্দুকহামলার ঘটনায় সন্দেহভাজনকে কেইন ক্লার্ক হিসেবে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর।
সোমবার (১৮ মে) হামলার ঘণ্টাখানেক আগে ক্লার্কের মা পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তার ছেলে ও গাড়ি দুটিরই কোনো খোঁজ মিলছে না। সেই সঙ্গে বাড়ি থেকে তিনটি অস্ত্রও উধাও।
সান দিয়েগোর পুলিশপ্রধান স্কট ওয়াল সিএনএনকে জানান, ওই নারী পুলিশকে বলেছিলেন, তার ছেলে আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে উঠেছিল। বাড়ি থেকে ওই কিশোর যে পরিমাণ অস্ত্র নিয়ে বের হয়েছিল, তা দেখে তদন্তকারীরা আশঙ্কা করেছিলেন, সে অন্যদের জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
পরে ঘটনাস্থলের কাছে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ক্লার্ক এবং ১৮ বছর বয়সী আরেক সন্দেহভাজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের গুলিতেই তারা মারা গেছে।
সান দিয়েগো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মসজিদে গুলিবর্ষণের ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী ও বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ক্লার্কের দাদা ডেভিড ক্লার্ক ও দাদি ডেবোরা ক্লার্ক তাদের বাড়ির সামনে সিএনএনকে বলেন, তারা এখনও ‘পুরো বিষয়টি বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না’ এবং যা ঘটেছে তার জন্য তারা ‘অত্যন্ত দুঃখিত’।
ক্লার্ক দম্পতি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি।’
সান দিয়েগো ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের মুখপাত্র জেমস ক্যানিং জানান, ক্লার্ক প্রথমে সান দিয়েগো স্কুল অব ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পারফরমিং আর্টসে পড়াশোনা করেছিল। পরে তার পরিবার তাকে ম্যাডিসন হাই স্কুলে অনলাইন লার্নিং প্রোগ্রামে ভর্তি করায়।
ক্যানিং জানান, ক্লার্ক অনলাইন ক্লাসে থাকলেও ওই স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেত এবং স্কুলের কুস্তি দলের হয়ে প্রতিযোগিতায় লড়ত।
তবে চলতি বছর স্কুলের কোনো কার্যক্রমে অংশ নেয়নি ক্লার্ক।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে স্কুলের কুস্তি দল একটি ছবি শেয়ার করে, যেখানে একটি টুর্নামেন্টে প্রথম স্থান অধিকার করায় ক্লার্ককে অভিনন্দন জানানো হয়েছিল।
মুখপাত্র ক্যানিং বলেন, ক্লার্কের সময়মতো গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার মতো ভালো একাডেমিক রেকর্ড ছিল এবং ২০১৫ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় এক সহপাঠীর পায়ে ঘুষি মারার ঘটনা ছাড়া তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তির রেকর্ড নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্লার্কের সাবেক এক কুস্তি সতীর্থ সিএনএনকে জানান, ক্লার্ককে দেখে মনে হতো, সে এই কুস্তি দলের মধ্যে নিজের একটা জগৎ খুঁজে পেয়েছে।
হামলার ঘটনা নিয়ে ওই সতীর্থ বলেন, ‘ক্লার্ক যে এমন কিছু করতে পারে, তা কখনোই মনে হয়নি। আমি কখনো ক্লার্ককে ইসলামবিদ্বেষী কোনো মন্তব্য করতে শুনিনি। তার মধ্যে কখনো সহিংস আচরণও দেখিনি।’