মালদ্বীপের একটি সামুদ্রিক গুহায় আটকা পড়ে পাঁচ অভিজ্ঞ ইতালীয় ডুবুরির মৃত্যু হয়েছে। দেশটির তদন্তকারী কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে একই সময়ে একই স্থানে পাঁচ দক্ষ ডুবুরির করুণ মৃত্যু হলো।
মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক জীববিদ্যার অধ্যাপক মনিকা মন্তেফালকোন (৫১) ও তার মেয়ে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী জর্জিয়া সোম্মাকাল (২৩)।
এছাড়া আছেন সমুদ্র গবেষক মুরিয়েল ওদেনিও, পরিবেশবিদ ফেদেরিকো গুয়ালতিয়েরি এবং মালদ্বীপে গত সাত বছর ধরে কর্মরত ডাইভিং ইনস্ট্রাক্টর জিয়ানলুকা বেনেদেত্তি।
দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে এই পাঁচ ডুবুরি সাগরে নামলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরে না আসায় ডাইভিং জাহাজের ক্রুরা বিপদ সংকেত দেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।
মালদ্বীপের বাভু প্রবাল দ্বীপপুঞ্জের আলিমাথা দ্বীপের অদূরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০-৬০ মিটার গভীরে একটি সামুদ্রিক গুহায় আটকা পড়েছিলেন ওই পাঁচজন। তারা ডিউক অব ইয়র্ক নামে একটি নৌকায় করে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি চারজনের মরদেহ এখনো ওই গুহার ভেতরে রয়েছে।
এদিকে মালদ্বীপের ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে অভিহিত করেছে। বর্তমানে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের বিশেষ ডুবুরি দলের পাশাপাশি একজন ইতালীয় বিশেষজ্ঞ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে গুহার ভেতর প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। ওমান উপকূলের আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে ওই এলাকায় আগে থেকেই ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি ছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার পেছনে মূলত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রথমত, ডাইভিং সিলিন্ডারে গ্যাসের মিশ্রণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাধারণত ৪০ মিটারের বেশি গভীরে গেলে নাইট্রোজেন গ্যাস মানুষের স্নায়ুকে অবশ করে ফেলে, যার ফলে ডুবুরিরা দিকভ্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন।
দ্বিতীয়ত, প্রায় ২৬০ মিটার দীর্ঘ ওই অন্ধকার গুহার ভেতরে ডুবুরিরা দিক হারিয়ে ফেলেছিলেন কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।