জাতীয় সংসদ তামাশা করার জায়গা নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদে প্রত্যেকটি মিনিটে জনগণের এক লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার টাকা খরচ হয়। এটা তামাশা করার জায়গা নয়। এটা আমার বাবার টাকায় চলে না, কারো বাবার টাকায় চলে না। এটা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে। সুতরাং এখানে আমাদের দায় আছে। কথা বলতে এখানে হিসাব আছে, যা তা বলা যাবে না। এখানে জনগণের কল্যাণের জন্য কথা বলতে হবে। আমাদের লড়াই এই নীতির ভিত্তিতে চলবে।’
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘সরকার ভালো কাজ করলে শুধু সমর্থন দেব না সহযোগিতাও করব। যদি সরকার কোনো মন্দ কাজ করে, অপকর্ম করে রুখে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ্। আমরা ছেড়ে দেব না কাউকে। আমরা আস্থার রাজনীতি করতে চাই, বিরোধীতা করার জন্য রাজনীতি করতে চাই না।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমেরিকার সঙ্গে হওয়া চুক্তির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কেউ জামায়াতের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি দাবি করে তিনি বলেন, ‘এখনো আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো একজন মানুষ এই বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে একটা শব্দ উচ্চারণ করেনি। এটাই হচ্ছে আমাদের অবস্থান।’
একনেকে পাস হওয়া পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের জন্য সরকারকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের জন্য স্বাগত জানাই। কিন্তু এই কাজটি তিস্তার বিনিময়ে নয়। তিস্তার জায়গায় তিস্তাকে অবশ্যই তার পাওনা দিতে হবে এবং এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এর ভিন্ন কিছু আমরা চাই না।’
পশ্চিমবঙ্গে প্রাদেশিক সরকার পরিবর্তন ও সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ এখন মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, আমরা এর নিন্দা জানাই। এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দুনিয়ার যেখানেই এরকম অপকর্ম হবে, আমরা তার নিন্দা জানাই। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে আঘাত করার অধিকার এই দুনিয়া ও কোনো দেশের সংবিধানও দেয় নাই। কেউ যদি এটা করে সেটা মানবতার বিরুদ্ধে জুলুম, আমরা সেটার সবসময় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের পক্ষে দেশের মানুষ রায় দিয়েছে। সরকার সেই গণভোটের রায়কে অপমান-অগ্রাহ্য করেছে। গণভোটের রায়কে বাদ দেয়া বা পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে দেয়া হবে না। আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদ ও সংসদের বাহিরে লড়াই চালিয়ে যাব। গণভোটের রায় একদিন বাস্তবায়ন হবে।’