সিনেমার চিত্রনাট্যকেও যেন হার মানাল বাস্তবতা। রুপালী পর্দার থালাপতি এখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। অভিনয় ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেই বাজিমাত করলেন। এলেন, দেখলেন আর জয় করলেন মানুষের মন! আর সেই সঙ্গে দখল করে নিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর পদটিও। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই দিলেন জনগণের মন জয় করা কিছু ঘোষণা। রাজ্যের আবাসিক গ্রাহকদের ২০০ ইউনিট করে বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিজয়ের সরকার। নারীদের বিশেষ নিরাপত্তার ওয়াদা দিয়েছে সরকার। আর এসব নিয়ে রাজ্যজুড়ে চলছে বিজয়-বন্দনা। অথচ বিপুল ভোটে পাস করলেও সরকার গঠন করা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত সেটি কেটে যায় আর জনতার জয় হয়।
১০ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়েন থালাপতি বিজয়। শপথের দিনেও বজায় ছিল তার সহজাত আভিজাত্য। একদম নায়ক সুলভ সেই ডেশিং স্টাইলেই শপথ নিলেন তিনি। তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
শুধু শপথ নিয়েই থেমে থাকলেন না বিজয়। দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই নেমে পড়েছেন কাজে। শপথ নিয়ে প্রথম সরকারি আদেশের সই করেছেন থালাপতি বিজয়। সেই অনুযায়ী জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে তামিলনাড়ুর নতুন রাজ্য সরকার আবাসিক গ্রাহকদের ২০০ ইউনিট করে বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ারে ঘোষণা দিয়েছে। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি তামিলনাডুর নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করার আদেশ দিয়েছেন।
থালাপতি বিজয়ের এই পথ খুব একটা সহজ ছিল না। তামিলনাড়ু ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ টি আসন। গত শুক্রবার পর্যন্ত তার রাজনৈতিক দল টিভিকের সমর্থন ১১৬ আসনে আটকেছিল। এ কারণে গভর্নর সরকার গঠনের আহ্বান জানাননি।
এ নিয়ে গত কয়েকদিন টানটান উত্তেজনাও বিরাজ করছিল। অবশেষে নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সহ কয়েকটি দলের সমর্থনে ১২০ টি আসন নিয়ে জোট সরকার গঠন করলেন থালাপতি। তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এই প্রথম কোন জোট সরকার শাসনভার গ্রহণ করল।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিজেপি ও অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতারা। তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে আনন্দে মেতেছেন তামিলনাড়ুর জনগণও। সিনেমার নায়ক এখন বাস্তবের নায়ক। জনগণের মুখে মুখে এখন বিজয়ের জয়গান এখন।