পশ্চিমবঙ্গের নিউ ব্যারাকপুরের ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই (এম) কর্মী সঞ্জিত রায় ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালকে বলেন, ‘আমাদের দল এখন ততটা শক্তিশালী নয়। তাই তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য আমাদের সমর্থকেরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।’
রাজ্যে বিজেপির এই উত্থান তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যর্থতার বিনিময়ে হলেও বাম দলগুলোর অনুগত ভোটাররা এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
এটি শুনতে কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু বাংলায় গেরুয়া শিবিরের এই প্রসারে বামপন্থী ভোটারদের বড় অবদান রয়েছে। গত ৪ মে ভবানীপুরে তৃণমূল প্রধান ও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার বিজয় ভাষণে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শুভেন্দু বলেন, ‘ভবানীপুরে সিপিআই (এম)-এর ১৩ হাজার ভোট ছিল। এর মধ্যে অন্তত ১০ হাজার ভোট আমার দিকে চলে এসেছে। সেখানকার সিপিআই (এম)-এর ভোটারদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
ভোট স্থানান্তরের এই চিত্র পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য আসনেই দেখা গেছে। এর মধ্যে দমদম উত্তর অন্যতম, যার অংশ সঞ্জিত রায়ের এলাকা নিউ ব্যারাকপুর।
দমদম উত্তরে একসময় সিপিআই(এম)-এর বিপুল ভোট ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেখান থেকে বিজেপি জয়লাভ করেছে।
অথচ বামেরা সেখানে দীপ্সিতা ধরের মতো ‘নতুন প্রজন্মের’ নেতাকে প্রার্থী করেছিল, যাদের দিয়ে দলের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতৃত্বকে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভোটারদের দলবদল করা অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং এভাবেই দলগুলো নির্বাচনে জয়ী হয়। কিন্তু সিপিআই(এম)-এর মতো ক্যাডারভিত্তিক বাম দলগুলোর ক্ষেত্রে এটি বেশ বিস্ময়কর।
বাম ভোটাররা সাধারণত আদর্শগতভাবে অত্যন্ত অনুগত হন। তাদের অধিকাংশই ছাত্র রাজনীতি থেকে বামপন্থার সঙ্গে যুক্ত হন।
এছাড়া টানা ৩৪ বছর (১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল) ক্ষমতায় থাকার ফলে পশ্চিমবঙ্গে বাম দলগুলোর বিশাল নেটওয়ার্ক ছিল।
তবে বিশেষজ্ঞ, ভোটার ও বাম কর্মীরা মনে করছেন, বাম থেকে ডানে (বিজেপিতে) এই পক্ষবদল বেশ কিছু সময় ধরেই চলছে।
তারা বিশেষ করে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন। সেসময় তৃণমূলের হাতে বাম ক্যাডারদের নিধনযজ্ঞ বাম কর্মী ও সমর্থকদের বিজেপির দিকে ঠেলে দেয়, কারণ বিজেপি তখন মাঠে শক্তিশালী হয়ে উঠছিল।
এর প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে, যেখানে বিজেপি ১৮টি আসন জিতে তাদের ২০১৪ সালের মাত্র ২টির রেকর্ড ভেঙে দেয়।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও এর প্রতিফলন দেখা যায়, যখন বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে ৭৭-এ পৌঁছায়।
বামপন্থীদের টিকে থাকার কৌশল নিয়ে আলোচনা করার পর আমরা পরিসংখ্যান ও ভোটের শতাংশের দিকে নজর দেব। বামেদের এই কৌশল অনেকটা মিক্সড মার্শাল আর্ট যোদ্ধাদের মতো।
একজন যোদ্ধা যখন দেখেন, প্রতিপক্ষের হাতের প্যাঁচে তার দমবন্ধ হয়ে আসছে বা তার কাঁধ মচকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, তখন তিনি সাময়িকভাবে হার মেনে নেন, যাতে পরবর্তীতে আবার লড়াই করতে পারেন।
পশ্চিমবঙ্গের মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, এই কৌশল সম্ভবত কাজে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বাম দলগুলো তাদের সেসব দলীয় কার্যালয় পুনরায় দখল করছে, যা আগে তৃণমূল কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল।
ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল যাদের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের মতে, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ব্যাপক মোতায়েন কেন্দ্রের ক্ষমতা প্রদর্শনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে সাহায্য করেছে।
সঞ্জিত রায় বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনের সময় তৃণমূল যে ভয় ও সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করত, তাতে বাম ভোটাররা বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। এবার সিএপিএফ জওয়ানদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।’
বাম ভোটারদের বিজেপিতে স্থানান্তর শুরু হয় কবে থেকে
টানা ৩৩ বছর ১০ মাস ক্ষমতায় থাকার পর ২০১১ সালে সিপিআই(এম)-এর নেতৃত্বাধীন বাম ফ্রন্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়। তবে তার মানে এই ছিল না, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বামপন্থীরা পুরোপুরি মুছে গেছে।
বরং তার উল্টো চিত্রই দেখা গেছে। বাম দলগুলো প্রতিটি নির্বাচনে পূর্ণ শক্তি নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছে এবং কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সিপিআই(এম)-এর বার্ষিক সমাবেশগুলোতে এখনো লাখ লাখ ক্যাডার ও সমর্থকের জমায়েত হয়।
তা সত্ত্বেও বামপন্থীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। উদাহরণ হিসেবে, এই জোটের সবচেয়ে বড় দল সিপিআই(এম)-এর কথা ধরা যাক।
২০১১ সালে দলটির ভোটের হার ছিল ৪১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে কমে মাত্র ৪ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তাদের এই জনভিত্তি প্রথমে মমতার তৃণমূলের দিকে এবং পরবর্তীতে আরও ডানে অর্থাৎ বিজেপির দিকে সরে গেছে। এই ঝোঁকটি মূলত শুরু হয় ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে, যা বাম ফ্রন্টের জন্য একটি চরম বিপর্যয় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল।
ব্যাপক সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন এবং বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিতর্কিত সেই নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে অসংখ্য বাম কর্মী আক্রান্ত ও নিহত হন।
অনেক সাধারণ ক্যাডারের কাছে ওই নির্বাচন এই বিশ্বাস দৃঢ় করে দেয়, তৃণমূল কংগ্রেসই এখন বামপন্থীদের প্রধান রাজনৈতিক শত্রু হয়ে উঠেছে।
তৃণমূল কর্মীদের ধারাবাহিক চাপ এবং রাজনৈতিক সহিংসতার মুখে বামপন্থীদের সাংগঠনিক কাঠামো যখন ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল, তখন তাদের ঐতিহ্যবাহী তৃণমূলবিরোধী ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। তারা বিজেপিকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের মোকাবিলা করার মতো একমাত্র সক্ষম শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে থাকে।
ভোটের এই স্থানান্তর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। সেই প্রথম কোনো বাম দল একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি। তাদের ভোটের হার ২০১৪ সালের ৩০ শতাংশ থেকে নেমে ৮ শতাংশের নিচে চলে আসে।
কলকাতার লেখক ও গবেষক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালকে বলেন, ‘বামপন্থীরা তাদের অর্ধেক ভোটার বিজেপির কাছে হারানোর কারণেই এমনটা ঘটেছে। বামপন্থীরা সেই ২২ শতাংশ ভোটারকে আর ফিরিয়ে আনতে পারেনি।’
এটি স্পষ্ট, বামেদের এই ক্ষতির সুযোগে লাভবান হচ্ছে বিজেপি।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তাদের আসন সংখ্যা ২০১৪ সালের ২টি থেকে বাড়িয়ে ১৮টিতে (মোট ৪২টি আসনের মধ্যে) নিয়ে যায়। একই সঙ্গে তাদের ভোটের হার ২০১৪ সালের ১৭ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছায়।
বাম ফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরেও এই ভোট স্থানান্তর এড়ায়নি।
২০১৯ সালে সিপিআই(এম)-এর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি স্বীকার করেছিলেন, বাম ভোটাররা বিজেপির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন।
কলকাতার সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইয়েচুরি বলেছিলেন, ‘সিপিআই (এম)-এর কোনো দলীয় সদস্য বিজেপিকে ভোট দেয়নি। কিন্তু বামপন্থীদের সমর্থক ভিত্তি, যারা তৃণমূলের আট বছরের শাসনামলে তীব্র সন্ত্রাস ও দমনের শিকার হয়েছে, তারা এটি করেছে।’
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়।
ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে বাম ভোটাররা জানিয়েছিলেন, অন্তরে কমিউনিস্ট হওয়া সত্ত্বেও তারা বিজেপিকে ভোট দেবেন।
প্রতিবেদনে এক বাম সমর্থকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমি জানি, এটা অত্যন্ত অদ্ভুত, কারণ বাম আর ডান কখনো এক হতে পারে না। কিন্তু বিজেপি জিতলে আমরা আবার বামপন্থাতেই ফিরে আসব। ক্ষমতা বড় কথা নয়। একবার তৃণমূলকে হটাতে পারলে আমি আবার শতভাগ সিপিআই (এম)-এ ফিরে যাব।’
এই মনোভাবের প্রতিফলন সে বছরের নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গিয়েছিল, যেখানে তৃণমূল ভূমিধস জয় পেলেও বিজেপি তাদের তৎকালীন সর্বোচ্চ ৭৭টি আসন লাভ করেছিল।
পশ্চিমবঙ্গের বাম ভোটাররা কেন বিজেপিকে সমর্থন করল
পশ্চিমবঙ্গের বামঘেঁষা ভোটাররা কবে বিজেপিতে ঝুঁকলেন, তা আমরা জানলাম। এখন প্রশ্ন হলো, কেন? কাগজে-কলমে বামপন্থা এবং বিজেপি তো চুম্বকের উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মতো পরস্পরের বিপরীত।
প্রথম কারণটি হলো টিকে থাকা; অতি সাধারণ এবং সহজ হিসাব। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মমতার তৃণমূল ধারাবাহিকভাবে বামপন্থীদের ওপর চড়াও হয়। দলীয় নেতা-কর্মীদের মারধর করা, দলীয় কার্যালয় দখল করা এবং অনেককে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
ফলে অনেকেই বিজেপির মতো বিকল্পের খোঁজ করতে শুরু করেন।
গত ৬ মে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সংসদ সদস্য জহর সরকার সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কংগ্রেস ও বামসহ অন্যান্য বিরোধী দলকে দুর্বল করার দিকে মনোনিবেশ করেন।
‘এসব দলের অনেক নেতা হয় তার দলে যোগ দেন, নয়তো সুরক্ষা ও রাজনৈতিক পরিসরের জন্য বিজেপিতে চলে যান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীদের কাছে বিজেপি এক ধরনের লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি হয়ে ওঠে।’
দ্বিতীয় কারণ হলো নির্ভরযোগ্য বিকল্পের অভাব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রিয়াজ ২০২১ সালে ইন্ডিয়া টুডেকে বলেছিলেন, ‘মমতাকে বাম কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণ হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে তিনি কার্যকরভাবে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৬ সালে ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ২১১টিতে জয়ী হয়।
‘বাম কর্মীরা তখন দেখতে পাচ্ছিলেন, তাদের পক্ষ থেকে খুব একটা জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলা যাচ্ছে না। ফলে হিন্দু বাম কর্মীদের একটি বড় অংশ বিজেপিকে সেরা বিকল্প হিসেবে দেখতে শুরু করে।’
এই প্রতিবেদনের জন্য ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল যে সিপিআই(এম) কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছে, তারা জানান, ২০২৬ সালের নির্বাচনেও একই মনোভাব কাজ করেছে।
সঞ্জিত রায় বলেন, ‘যদিও আমাদের স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমর্থন ছিল, কিন্তু সিপিআই(এম) একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। তাই আমাদের অনেক সমর্থক বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।’
একজন গড়পড়তা বাম ভোটারের আদর্শের ঠিক বিপরীত মেরুতে বিজেপির অবস্থান হতে পারে, কিন্তু অনেকের কাছেই মমতার তৃণমূল ছিল ‘স্পষ্ট ও বর্তমান বিপদ’।
অনেক বাম সমর্থকের সারসংক্ষেপ ছিল এমন, ‘এবার রাম, পরে বাম’। অর্থাৎ, এবার আমরা রামকে (বিজেপি) ভোট দিচ্ছি; পরের বার বামপন্থীদের দেব।
নিউ ব্যারাকপুরের এক সিপিআই(এম) কর্মী ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালকে বলেন, ‘বিজেপির জয়ের মানে এই নয় যে, বাম সমর্থকেরা হঠাৎ করে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি গ্রহণ করেছেন বা বাম আদর্শ ত্যাগ করেছেন। বরং এটি সেই মুহূর্তের বাম সংগঠনের দুর্বলতাকেই প্রতিফলিত করে, যেখানে অনেক ভোটার মনে করেছিলেন, তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার মতো নির্বাচনী বা প্রশাসনিক শক্তি বামেদের নেই।'
ইন্ডিয়া টুডে থেকে নেওয়া