ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমির এক দুর্গম এলাকায় একদিন নিচ দিয়ে হেলিকপ্টার উড়ে যেতে দেখেন স্থানীয় এক রাখাল। অস্বাভাবিক কিছু কর্মতৎপরতাও চোখে পড়ে তার।
সেই রাখাল তখন কল্পনাও করতে পারেননি, তিনি আসলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তৈরি ইসরায়েলের একটি গোপন ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শনিবার (৯ মে) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা জোরদার করতে ইরাকি মরুভূমিতে সামরিক ঘাঁটিটি গড়ে তুলেছিল ইসরায়েল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে এটি স্থাপন করা হয়। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র জানলেও ইরাক সরকার ছিল সম্পূর্ণ অন্ধকারে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘাঁটিতে ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের রাখা হয়েছিল। দেশটির বিমান বাহিনীর রসদ সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল ঘাঁটিটি।
এছাড়া সেখানে তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন ছিল, যাতে শত্রু এলাকায় কোনো ইসরায়েলি পাইলট ভূপাতিত হলে তাদের দ্রুত উদ্ধার করা যায়।
ইসরায়েল থেকে ইরানের দূরত্ব প্রায় এক হাজার মাইল। ইরাকে এই ঘাঁটি স্থাপন করায় সেই দূরত্ব অনেকটাই কমে যায়, যা তেল আবিবের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিমান অভিযান পরিচালনা করা সহজ করে দেয়।
জাতিসংঘে অভিযোগ
গেল মার্চের শুরুতে এই গোপন অভিযান প্রায় ফাঁস হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ইরাকি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই রাখাল মরুভূমিতে অস্বাভাবিক কর্মতৎপরতার কথা কর্তৃপক্ষকে জানালে ইরাকি সেনাবাহিনী সেখানে তদন্তের জন্য সেনা পাঠায়।
তাদের ওই গোপন ঘাঁটিতে পৌঁছানো ঠেকাতে ইসরায়েল বিমান হামলা চালায়। এতে একজন ইরাকি সেনা নিহত এবং দুজন আহত হন।
ইরাক পরবর্তীতে আরও দুটি সেনাদল পাঠালে তারা সেখান থেকে এমন কিছু প্রমাণ উদ্ধার করে, যা নিশ্চিত করে, সেখানে সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ছিল।
ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাইস আল-মুহাম্মাদাউই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সমন্বয় বা অনুমোদন ছাড়াই এই অবিবেচক অভিযান চালানো হয়েছে। মনে হচ্ছে, বিমান হামলা চালানোর আগে সেখানে একটি স্থলবাহিনী সক্রিয় ছিল, যাদের সক্ষমতা আমাদের ইউনিটের চেয়ে অনেক বেশি।’
এই ঘটনার পর ইরাক জাতিসংঘে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে এবং এই হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপায়।
তবে মার্কিন এক কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, সেই নির্দিষ্ট হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
জনশূন্য এবং বিস্তীর্ণ এলাকা হওয়ায় ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমি গোপন সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে পরিচিত। এর আগে ১৯৯১ ও ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময়ও মার্কিন বাহিনী ওই অঞ্চল ব্যবহার করেছিল।