ইরানের একটি শক্তিশালী ‘অতি-কট্টরপন্থী’ গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রচার শুরু করেছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটনকে ‘পরাজিত’ করার মাধ্যমেই কেবল তেহরানের কোনো চুক্তিতে আসা উচিত।
‘জেবহে-ই পায়দারি’ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠী, যাদের ‘অতি-বিপ্লবী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের চুক্তির বিরোধিতায় সম্প্রতি সবচেয়ে সোচ্চার পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই গোষ্ঠী সংবাদমাধ্যমে প্রচার, বক্তৃতা, পার্লামেন্টে হস্তক্ষেপ এবং তেহরানের রাস্তায় বড় বড় সমাবেশের মাধ্যমে ইরান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের হামিদরেজা আজিজি সিএনএনকে বলেন, ‘গোষ্ঠীটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে একটি অনন্ত লড়াই হিসেবে দেখে। তারা শিয়া রাষ্ট্রে বিশ্বাসী, যা কেয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকা প্রয়োজন। এই ধর্মীয় আদর্শের বিষয়ে গোষ্ঠীটি বেশ কট্টর।’
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর এই গোষ্ঠীর উত্থান আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব আলোচনার সময় ঐক্য বজায় রাখার চেষ্টা করলেও এই গোষ্ঠী ক্রমাগত দেশের আলোচকদের আক্রমণ করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।
এই গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সংবাদমাধ্যম রাজা নিউজে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ইরানিদের সমালোচনা করা হয়েছে।
সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ইরানি নেতাদের হত্যার পরও আলোচকেরা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘করমর্দন’ করতে আগ্রহী।
গোষ্ঠীটির সদস্যরা ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের বিরুদ্ধে ‘আঁতাতের’ অভিযোগ এনেছেন এবং আলোচকদের ‘ভীরু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তারা সতর্ক করেছেন, এই আলোচনা ইরানের জন্য ‘বিরাট ক্ষতি’ ডেকে আনতে পারে।
‘জেবহে-ই পায়দারিকে’ ইরানের রক্ষণশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যেও অত্যন্ত উগ্রপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির রাজনীতি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি