ভোলার লালমোহন উপজেলায় গাছ থেকে নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মো. মাসুদ (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এসময় উভয় পক্ষের আরও অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে লালমোহন পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত মো.মাসুদ লালমোহন পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চর ছকিনা এলাকার মৃত আলী আজগরের ছেলে। অপরদিকে গ্রেপ্তাররা হলেন- আক্তার (৪০), রেশমা (৩০), তানভীর (১৮) ও ফিরোজ (৪০)। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মাসুদ ও মো.আক্তার তারা উভয়ই একই বাড়ির বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার দুপুরে আক্তার তার দলবল নিয়ে মাসুদের জমিতে থাকা একটি গাছ থেকে জোরপূর্বক নারিকেল পাড়ার চেষ্টা করেন। এসময় মাসুদের মেয়ে মাসুমা তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের আরও লোকজন জড়ো হয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা লাঠিঁসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় মাসুদসহ তার পরিবারের ৬ জন ও আক্তারের পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। তাদের মধ্যে মাসুদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে বরিশালে নেওয়ার পথে মারা যান।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে নিহত মাসুদের মেয়ে মাসুমা বাদী হয়ে আক্তারকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে লালমোহন থানায় হত্যা মামলা করেন।
লালমোহন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন, ‘মূলত জমির বিরোধ ও নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মেয়ে মামলা করার পরে আমরা অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছি,বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।’