যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সহযোগীদের ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
এর আগের দিন এক বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা বা যুদ্ধবিরতি আলোচনা বন্ধ করার পরিবর্তে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন ট্রাম্প। তার মতে, আলোচনা থেকে সরে আসা বা পুনরায় সংঘাত শুরু করার চেয়ে এই অবরোধ বজায় রাখা কম ঝুঁকিপূর্ণ।
অন্যদিকে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘বেশ ভালো করছে’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা এখন মধ্যপ্রাচ্যে কিছু কাজ করছি এবং আমরা খুব ভালো করছি। আমরা সামরিকভাবে সেই নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেছি এবং আমরা তাদের কখনোই ছাড় দেব না। চার্লস আমার চেয়েও বেশি একমত, আমরা সেই প্রতিপক্ষকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেব না।’
ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে কী ছিল
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিজস্ব জাহাজ ছাড়া বাকি সব জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ট্রাম্প ‘অসন্তুষ্ট’ বলে জানা গেছে, কারণ এতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির কোনো উল্লেখ ছিল না।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, ‘তিনি (ট্রাম্প) এই প্রস্তাব পছন্দ করেননি।’
গত সোমবার ইরানি সূত্রগুলো জানায়, যুদ্ধের অবসান এবং পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখতে চায় ইরান। তবে ওয়াশিংটন শুরু থেকে পরমাণু কর্মসূচি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির প্রস্তাবটি ছিল পর্যায়ক্রমিক আলোচনার। এর প্রথম ধাপ হবে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আর যুদ্ধ শুরু করবে না, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া।