লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবাতিহ জেলার ইয়াহমোর আল-শাকিফ গ্রামে দুটি পৃথক হামলায় শনিবার (২৫ এপ্রিল) চারজন নিহত হয়েছেন। এই এলাকা লিতানি নদীর উত্তরে। এটি ইসরায়েলের ঘোষিত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা দক্ষিণ লেবাননে দখল করা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়।
এদিন হামলায় নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও এটি ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অব্যাহত অভিযানেরই অংশ।
আল জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার সকাল থেকে দক্ষিণ লেবাননজুড়ে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। তায়ার শহর থেকেও সেই শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।
মূলত ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। তারা নাকুরা এবং সীমান্ত সংলগ্ন পূর্ব অংশে ভবন ধ্বংস করছে। এছাড়া সীমান্তের বিন্ত জবেইল শহরে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েল তাদের একতরফাভাবে ঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর ভেতরে এবং সীমান্তজুড়ে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এমনকি শনিবার ভোরে তারা সীমান্তের উত্তরে বেশ কিছু স্থানেও হামলা চালায়।
ইসরায়েলের দাবি, ওইসব এলাকা থেকে রকেট হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় মার্চের শুরুতে ইসরায়েলে হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। জবাবে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক আঘাত হানতে থাকে। একপর্যায়ে তারা দেশটির কয়েকটি অঞ্চল নিজেদের দখলে নেয়।
দীর্ঘ সংঘাতের পর ২৩ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে লেবানন ও ইসরায়েল তাদের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়াতে রাজি হয়েছে। তবে সেই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই লেবাননে ফের হামলা শুরু করে ইসরায়েল।