লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে কোনো ফোনালাপের বিষয়ে ‘অবহিত নয়’ লেবানন কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) লেবাননের রাষ্ট্রপতির একজন মুখপাত্র এই তথ্য জানিয়েছেন।
অথচ এর ঘণ্টা কয়েক আগে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার ওই দুই নেতা সরাসরি কথা বলবেন বলে জানিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট আউনের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ফোনালাপের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। যদি সত্যিই এমন কিছু ঘটে, তাহলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করা হবে।’
এর আগে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু ও আউনের মধ্যে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে চার দশকেরও বেশি সময় পর ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতেরা সরাসরি আলোচনায় বসার পর এই খবর আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা বৃহস্পতিবার কথা বলবেন।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে বৈরী পরিবেশ কিছুটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। দীর্ঘ সময়, প্রায় ৩৪ বছর পর দুই দেশের নেতারা কথা বলবেন। কালই (বৃহস্পতিবার) এটি হতে যাচ্ছে। চমৎকার!’
তবে তারা কোথায়, কীভাবে যোগাযোগ করবেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিন মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে ২ মার্চ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় লেবাননের হিজবুল্লাহ। এর মধ্য দিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে গোষ্ঠীটি।
সেই থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে, যার উদ্দেশ্য আরও ভূখণ্ড দখল করে তথাকথিত ‘বাফার জোন’ তৈরি করা।