যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে এই সপ্তাহান্তে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। তেল আবিব থেকে প্যারিস, কেপটাউন থেকে মিশিগান—সবখানেই প্রতিধ্বনিত হয়েছে যুদ্ধবিরোধী বার্তা।
ইসরায়েলের তেল আবিবে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে এক সমাবেশে শত শত মানুষ ইসরায়েলি পতাকা হাতে নিয়ে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘বিদেশি বোমা কাউকে মুক্ত করতে পারে না’, ‘যুদ্ধযন্ত্রকে আর মদত দেবেন না’।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিক্ষোভকারী উরি ওয়েল্টম্যান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বর্তমান নেতারা আমাদের এমন এক বাস্তবতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, যেখানে যুদ্ধ কখনো শেষ হবে না—গাজায় না হলে ইরানে, ইরানে না হলে লেবাননে যুদ্ধ হবে।’
এদিন ফ্রান্সের প্যারিসেও বিক্ষোভকারীরা ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করেন এবং আঙুলের মুদ্রায় শান্তির চিহ্ন প্রদর্শন করেন।
হিভা মোহাম্মদ নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘ইরানে বোমা ফেলা ভয়াবহ কাজ। কোনো বোমা বা যুদ্ধ এই সত্যকে আড়াল করতে পারবে না যে, ইরানকে মুক্ত করবে সে দেশের মানুষই—তাদের নিজস্ব প্রতিরোধের মাধ্যমে।’
এর আগের দিন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীরা ‘ইরান থেকে হাত তোলো’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমাবেশ করেন। সেখানে অনেককে ‘ট্রাম্পকে বিদায় হতে হবে’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
একই দিনে মিশিগানের ডিয়ারবর্নে লেবাননের পতাকা হাতে বিক্ষোভ হয়। সেখানে এক নারীকে একটি শিশুর ছবির পাশে ‘ইসরায়েল এই শিশুটিকে হত্যা করেছে’ লেখা পোস্টার ধরে থাকতে দেখা যায়।
শনিবার লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহ ও লেবাননের পতাকা নিয়ে রাজপথে নামেন সাধারণ মানুষ। রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে তারা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানান।
মোহাম্মদ জাবের নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘এই মাটিতে আমরা মরছি। আমাদের সন্তানদের মাথার ওপর ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রতিরোধ না থাকলে কেউ আমাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত না। প্রতিরোধ না থাকলে কেউ আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতেও আসত না।’
তথ্যসূত্র: সিএনএন