ইউরোনিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ জানিয়েছেন, ইরানের বর্তমান সরকারের ওপর তাদের কোনো ‘আস্থা নেই’। তাই কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি দিয়ে আঞ্চলিক সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এর বদলে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে আনোয়ার গারগাশ বলেন, ইরান যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি বিস্তৃত নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রয়োজন। এর মধ্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, আঞ্চলিক দেশগুলোর আচরণ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার জন্য স্থিতিশীল ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
তিনি জানান, আমিরাত এককভাবে কোনো নৌ-শক্তি হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত না হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক যেকোনো উদ্যোগে যোগ দিতে তারা ইচ্ছুক।
আবুধাবিতে ইউরোনিউজের সঙ্গে আলাপকালে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আমিরাতের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন গারগাশ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সংঘাতের সমাধান হতে হবে কাঠামোগত ঝুঁকির নিরসনের মাধ্যমে; কোনো অস্থায়ী বিরতির মাধ্যমে নয়।
গারগাশ বলেন, ‘আমরা আর উত্তেজনা চাই না, কিন্তু এমন কোনো যুদ্ধবিরতিও চাই না, যা মূল সমস্যাগুলোকে আড়ালে রেখে এই অঞ্চলকে আরও বেশি বিপজ্জনক করে তুলবে।’
ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে শত্রুতা চাই না, কিন্তু তাদের বর্তমান শাসনের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। ইরান সরকার দেশটির জন্য লড়ছে না, তারা লড়ছে কেবল নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে। কোনো স্বাভাবিক সরকার কেবল ‘প্রতিরোধ’ দেখানোর জন্য নিজের দেশের এমন ধ্বংসযজ্ঞ মেনে নিতে পারে না।”
ভবিষ্যৎ সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরে গারগাশ জানান, যেকোনো আলোচনায় ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ গত এক মাসে তারা তেহরানের ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সামলাতে হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতকেই।