ভারতের সরকারি স্কুলগুলো ‘মিড ডে মিল’ চালু রাখতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বিকল্প উৎস খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যেই জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জানিয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর চলতি বছরের মার্চ মাসে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে খাদ্যমূল্য আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ১১ দশমিক ৮ থেকে ১২ কোটি শিশু পুষ্টির জন্য ‘মিড ডে মিলের’ ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্বের বৃহত্তম এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এখন তৃণমূল পর্যায়ে সংকটের মুখে পড়েছে।
ভারতের দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, অযোধ্যা জেলার পুরা ব্লকের মিত্রসেনপুর গ্রামের এক স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে।
প্রান্তিক নারীদের পরিচালিত সংবাদপত্র খবর লহরিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলে শিশুদের হাসাহাসি আর কোলাহল দিনকে দিন ম্লান হয়ে আসছে।
স্থানীয় ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬০ জন শিক্ষার্থীর পুষ্টির একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস ‘মিড ডে মিল’। কিন্তু ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের থাবা এখন তাদের খাবার টেবিল পর্যন্ত পৌঁছেছে।
মূলত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের এই শিশুদের ওপর সংকটের মূল বোঝা চেপে বসেছে। স্কুলের রান্নাঘরে এলপিজি সিলিন্ডার না থাকায় দুপুরের খাবারের টেবিল এখন শূন্য পড়ে থাকছে। সিলিন্ডার ছাড়া ডাল, ভাত ও সবজি রান্না করা কঠিন।
খবর লহরিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সপ্তাহ ধরে স্কুলে রান্না বন্ধ রয়েছে। শিশুদের এখন কেবল ভেজানো ছোলা বা বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। কখনো কখনো শিশুদের না খাইয়েই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কেবল উত্তরপ্রদেশ নয়, এলপিজি সংকটের কারণে পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশার অনেক গ্রামীণ স্কুলেও রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জায়গায় স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে লাকড়ি বা জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করছে।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকটের কথা আঁচ করে আগেভাগেই লাকড়ি মজুত করা হয়েছিল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানান, গত ১১ মার্চ রান্নার গ্যাস না আসায় প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর দুপুরের খাবার মাটির উনুনে লাকড়ি দিয়ে রান্না করা হয়।