জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি) নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। ৯০ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে দলটি। এতে নাঈম আহমাদকে আহ্বায়ক, অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিমকে সদস্য সচিব এবং মো. আহছান উল্লাহকে প্রধান সংগঠক করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
সংবাদ সম্মেলনে নাঈম আহমাদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণপরিষদ গঠন, সংবিধান বাতিল, সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ প্রেক্ষাপটে জেডিপি স্পষ্টভাবে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার আলোকে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সামাজিক গণতন্ত্রভিত্তিক একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন জরুরি।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে জেডিপির অবস্থান তুলে ধরে নাঈম আহমাদ বলেন, কেবল সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক পরিবর্তন আনা ঝুঁকিপূর্ণ। উচ্চ আদালতের স্বীকৃত ‘মৌলিক কাঠামো’ তত্ত্বের কারণে সংসদে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনও পরে৪ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই একটি সম্পূর্ণ নতুন সংবিধান প্রণয়নই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি গণপরিষদ গঠনে অনীহা দেখালেও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তাদের ঘোষিত ৩১ দফা ও জুলাই সনদের কিছু অংশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে তা জনগণের মধ্যে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে এবং ভবিষ্যতে নতুন সংবিধানের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখবে।
তবে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, গণপরিষদের পরিবর্তে সংশোধন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরতা সাংবিধানিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, আপিল বিভাগ ইতোমধ্যে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনযোগ্য নয় বলে রায় দিয়েছে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগীদের প্রতিও জনগণের একটি বড় অংশের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
জেডিপি জানায়, সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তন এনে সমাজতন্ত্রের পরিবর্তে সামাজিক গণতন্ত্র ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশপন্থা বা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা জনমত গড়ে তুলবে। দলটি ক্ষমতায় গেলে গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করে।