যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তাবিত ২০০ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলারের অর্থায়নে তিনি ‘কোনোভাবেই’ সমর্থন দেবেন না। একই সঙ্গে ইসরায়েলে অস্ত্র স্থানান্তর বন্ধে একটি বিশেষ প্রস্তাব আনারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিশাল অঙ্কের অর্থায়নের বিষয়ে বুধবার (২৫ মার্চ) স্যান্ডার্সকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘একেবারেই না। সত্যি বলতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা একটি যৌথ প্রত্যাখ্যান প্রস্তাব আনতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে ইসরায়েলে পাঠানো ২০ হাজার বোমা এবং বুলডোজার সরবরাহ বন্ধ করা হবে।’
স্যান্ডার্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রই ইরানের বিরুদ্ধে এই ‘যুদ্ধ শুরু করেছে’।
ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দাম এবং আমেরিকানদের ওপর বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মার্কিন সেনেটর বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ছে। সাধারণ মানুষ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
সাশ্রয়ী জীবনযাত্রাকে অগ্রাধিকার দিতে না পারায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন তিনি।
স্যান্ডার্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রই এই যুদ্ধ শুরু করেছে। ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে তারা একতরফা হামলা চালিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। অনেক আমেরিকানই এখন আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং খাবারের মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আপনি রিপাবলিকান হোন বা ডেমোক্র্যাট—এই যুদ্ধ আমেরিকার জনগণ চায় না।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের এই সেনেটর গাজায় চলমান গণহত্যার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কি সত্যিই ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যারা গাজা ধ্বংস করে দিয়েছে? যেখানে ১০ শতাংশ মানুষ মৃত বা আহত? আমি নিশ্চিত নই, এই ধরনের মিত্রদের সঙ্গে আমাদের কাজ করা উচিত কি না।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে, যাতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইরানও এর জবাবে ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এসব হামলায় হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর কমপক্ষে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড